স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: সম্প্রতি নিউটাউন আকাঙ্খা মোড়ের কাছে একটি বহুতলে ভুয়ো অফিস খুলেছিল প্রতারকরা৷ পাসপোর্ট ও ভিসা বানিয়ে বিদেশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে চম্পট দিয়েছে তারা৷ প্রতারিত হয়েছেন বহু মানুষ৷ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷ কিন্তু অভিযুক্তরা এখনও অধরা৷

নিউটাউন থানা এলাকার আকাঙ্খা মোড়ের কাছে আস্ত্রা টাওয়ার নামে একটি বিল্ডিং এ ভুয়ো অফিস খুলে বসেছিল প্রতারকরা৷ পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের চাকরির সুযোগ রয়েছে৷ কাগজে এই ধরণের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে৷

তাদের বলা হত বিদেশে যাওয়ার পাসপোর্ট, ভিসা এমনকী বিমানের টিকিট কেটে দেওয়া হবে৷ শুধু আপনাদেরকে টাকা দিতে হবে৷ সেই টাকা কিস্তিতে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে৷ এই প্রলোভনে পা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বহু মানুষ৷ তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে৷ এরপরই নড়েচড়ে বসেছে নিউটাউন থানায় পুলিশ৷

উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ের বাসিন্দা তপন মজুমদার ২৪ জানুয়ারি অভিযোগ করেন যে,তার মত অনেকেই একটি কোম্পানী দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন৷ তারা বিদেশের হোটেলে কাজে যাবে বলে ভিসা করানোর জন্য নিউটাউনের গেটওয়ে ইন্টারন্যাশনাল কনসাল্টিং ফার্ম নামে এই অফিসে আসেন৷ ওই কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সন্তোষ বেহারার সাথে কথা বলেন৷ সে সময় ওই ভুয়ো অফিসে উপস্থিত ছিলো কেম্পানির বেশ কয়েকজন স্টাফও৷ তারা নিজেদেরকে রাজ শর্মা, মিস্টার দাস, সুনিতা, নেহা জয়সোয়াল বলে পরিচয় দিয়েছে৷

ভুয়ো কোম্পানির লোকেদের কথা মত বেকার যুবকরা পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিটের জন্য প্রত্যেকে ৭৫ হাজার করে টাকা জমা দেন। সে সময় তাদেরকে একটি এগ্রিমেন্ট পেপারও দেওয়া হয়।এবং বলা হয় টিকিট হয়ে গেলে ফোন করা হবে তখন আরও ৭৫ হাজার টাকা দিতে হবে৷ সেই মতো তিন সপ্তাহ পরে ভুয়ো কোম্পানি থেকে ফোন করে বলে টিকিট হয়ে গেছে, তারা যেন টাকা জমা দেন৷

প্রত্যেকে আরও ৭৫ হাজার টাকা জমা দেন৷ তারপর তাদেরকে বলা হয় ২৩ জানুয়ারি রাত ১:৩০ টা নাগাদ থাই এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট৷ সেই মত ওই যুবকরা ২২ তারিখ কলকাতা থেকে ট্রেন ধরে চেন্নাই পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে কোনও টিকিট কাটা নেই৷ তাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তা সবই জাল৷ কোম্পানীকে ফোন করা হলে বলা হয় তাদের টিকিট ক্যান্সেল করা হয়েছে।দুদিন পরে আবার টিকিট করে দেওয়া হবে।

সেইমত চারজন যুবক চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে থেকে যান। দু’দিন পরে ফের ফোন করলে দেখা যায় সব ফোন নম্বর বন্ধ।কলকাতার এক আত্মীয়কে অফিসে পাঠালে জানতে পারেন, বেশ কয়েকদিন ধরে অফিস বন্ধ রয়েছেন। তখনই তারা বুঝতে পারে যে প্রতারিত হয়েছেন।এরপরই ওই চারজন যুবক নিউটাউন থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিউটাউন থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।এই ভাবে আরও অনেকে প্রতারিত হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।