স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ঐতিহ্যবাহী বালুচরী শাড়ি শিল্পের পুনরুজ্জীবনে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে দু’দিনের ‘বালুচরী হাট’ শুরু হল। শনিবার জেলা প্রশাসন ও ‘তন্তুজে’র উদ্যোগে শহরের পুলিশ চৌকি সংলগ্ন গ্রামীণ হাটে ‘বালুচরী হাটে’র সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল, তন্তুজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবীন্দ্রনাথ রায় সহ মহকুমা প্রশাসন ও তন্তুজের আধিকারিকরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কেউ চাইলে এখান থেকে সরাসরি শিল্পীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহি বালুচরি শাড়ি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী শিল্ক এখান থেকেই কেনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও এই বালুচরী হাট থেকেই রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা তন্তুজ শিল্পীদের কাছ থেকেই তাদের উৎপাদিত বালুচরী কিনে নেবে। পরে তারা তা তাদের নির্দিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্র গুলির মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করবে।

তাছাড়া সাধারণ ক্রেতা এখানে এসে নিজের হাতে শাড়ি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। রবিবার সকাল ১১ টা রাত ৮ টা পর্যন্ত বালুচরী হাট খোলা থাকবে বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।

‘বালুচরী হাটে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে তন্তুজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবীন্দ্রনাথ রায় বলেন, এই হাটের মাধ্যমে তন্তুজ ও শিল্পী পরস্পরের মধ্যে যোগসূত্র তৈরী হচ্ছে। আমাদের সংস্থা সরাসরি শিল্পীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে তাদের উৎপাদিত শাড়ি কিনে নিচ্ছে। এছাড়াও নতুন ডিজাইন, রং সহ অন্যান্য বিষয়ে শিল্পীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

একই সঙ্গে তিনি আরো জানান, রাজ্যে উৎপাদিত জামদানী, টাঙ্গাইল সহ অন্যান্য শাড়ির সঙ্গে বালুচরী শাড়ির ক্ষেত্রেও ডিজাইন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীকে ‘তাঁতের হাটে’ পুরস্কৃত করা হয়৷ গত বছর এখান থেকে তন্তুজ চারশো বালুচরী শাড়ি সংগ্রহ করেছিল, এবছর সেই সংখ্যাটা সাতশোতে পৌঁছাবে।

মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, এদিন বালুচরী হাটে সত্তর জনের বেশী শিল্পী অংশ নিয়েছেন। আশা করা যায়, এই হাটে অংশ নেওয়া শিল্পীদের কাছে সমস্ত শাড়িও তন্তুজ সংগ্রহ করবে। বালুচরী হাটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণভাবে ফি বছর এই বর্ষার সময়ে বিক্ষিপ্তভাবে আসা পর্যটকরা সামান্য পরিমানে কেনাকেটা করেন। তার বাইরে সেভাবে বিক্রিবাটা হয়না। আর সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে মহাজনরা শিল্পীদের কাছ থেকে কম দামে শাড়ি সংগ্রহ করে আগামী পুজোর মরশুমে চড়া দামে বিক্রি করেন।

সেই অসৎ পথ আটকাতে ও গরীব শিল্পীদের মহাজনী খপ্পর থেকে বাঁচাতে তন্তুজ, তন্তুজার মতো সরকারী সংস্থাকে এনে একেবারে নির্দিষ্ট মূল্যে বালুচরী শাড়ি কেনানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আর্থিক দিক থেকে বালুচরী শিল্পীরা লাভবান হবেন বলেই তিনি মনে করেন।