বিশাখাপত্তনম: রোহিতের ১২৭ রানের পাশাপাশি তাঁর ৮১ রানের ইনিংসটিও দ্বিতীয় ইনিংসে দলের জন্য সমান উজ্জ্বল এবং গুরুত্বপূর্ণ। আর বেশ কয়েকটা ইনিংস ব্যাটে রানের খরার পর এই ইনিংসকে ‘ডিপেন্ডবল’ পূজারার ‘কামব্যাক’ ইনিংস বললেও অত্যুক্তি করা হবে না।

বিশাখাপত্তনমে দুরন্ত অর্ধশতরানের পর পূজারা জানালেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দু’টো দারুণ বলে আউট হয়েছিলাম। ব্যর্থতা ব্যাটসম্যান হিসেবে তোমায় পরিপক্ক করে তুলতে সহায়তা করবে। আমি জানতাম ফর্মে ফেরার জন্য একটা ভালো ইনিংসই আমার কাছে যথেষ্ট।’ উল্লেখ্য, চতুর্থদিন দ্বিতীয় উইকেটে রোহিত-পূজারার ১৬৯ রানের ইনিংসই দ্বিতীয় ইনিংসে দলের লিড অনেকটা বাড়িয়ে নিতে সাহায্য করে। মূলত রোহিতের ১২৭ ও পূজারার ৮১ রানের ইনিংসেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩২৩ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ইনিংসে ভারত ৭১ রানে এগিয়ে থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৩৯৫। দিনের শেষে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১১ রান।

পূজারার ইনিংস এদিন সাজানো ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছয়ে। মন্থর উইকেটে রোহিতের সঙ্গে মূল্যবান পার্টনারশিপ প্রসঙ্গে দিনের শেষে পূজারা বলেন, ‘ব্যাটসম্যানদের জন্য এদিন পিচটা যথেষ্ট কঠিন ছিল। প্রথমদিকে স্ট্রাইক রোটেট করতে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু একবার ধাতস্থ হয়ে যাওয়ার পর ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ছিল। চা-পানের বিরতিতে দলের রানকে ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলাম আমরা। পরিকল্পনা সফল হয়েছে এবং রোহিতের ব্যাটিং আমায় ভীষণ সাহায্য করেছে।’

কামব্যাক ইনিংসের পর ক্যারিবিয়ান সফরে দু’টি টেস্ট মিলিয়ে তাঁর মাত্র ৬০ রান সংগ্রহ করার বিষয়েও মুখ খোলেন রাহানে। দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের কথায়, ‘কখনও কখনও একটি ফর্ম্যাটে খেলার কারণে পারফর্ম্যান্সে প্রভাব পড়ে। খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে আমি আমার ফিটনেসের দিকে নজর দিয়েছিলাম, যা ভীষণ কাজে লেগেছে। কারণ আমি জানতাম একটি ফর্ম্যাটে যেহেতু খেলছি তাই যত দ্রুত সম্ভব আমাকে ফর্মে ফিরতে হবে।’

অন্যদিকে বিশ্বের প্রথম ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি গড়ার নজির গড়লেন ‘হিটম্যান’। একইসঙ্গে ষষ্ঠ ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একটি টেস্টের দুই ইনিংসে শতরান হাঁকিয়ে এলিট ক্লাসে ঢুকে পড়লেন রোহিত। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় ওপেনারের ব্যাট থেকে এল ঝকঝকে ১২৭ রানের ইনিংস। এর আগে বিজয় হাজারে, সুনীল গাভাস্কর, রাহুল দ্রাবিড়, বিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানের ঝুলিতে ছিল এই অনন্য নজির। বিশাখাপত্তনমে চতুর্থদিন রোহিতের শতরান সাজানো ছিল ১০টি চার ও ৭টি ছয়ে।