প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার দু’মাস পর তাকে পরিবারের হাতে তুলে দিল বর্ধমান থানার পুলিশ৷ নির্যাতিতা ছাত্রী ও তার মায়ের অভিযোগ তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার পর অভিযুক্ত যুবক তাদের হুমকি দিচ্ছে৷ নির্যাতিতা ওই ছাত্রী বর্ধমানের ছোটনীলপুর এলাকার বাসিন্দা৷

বুধবার পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবের কাছে ওই ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, গত বছর ১৮ এপ্রিল তাঁর মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় সেখ রফিকুল ওরফে ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়ের নামে ওই এলাকারই এক যুবক৷ সে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দু’মাস পর ওই ছাত্রী ফোনে তার মাকে জানায় তাকে বীরভূমের সাঁইথিয়ার একটি গ্রামে আটকে রাখা হয়েছে৷ তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে৷

এরপরই বর্ধমান থানার পুলিশের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়৷ নাবালিকা হওয়ায় তাকে পাঠানো হয় হোমে৷ মাস দেড়েক আগে ওই ছাত্রীকে তার অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ কিন্তু তারপর থেকেই ওই যুবক নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেছে৷ এমনকী, বাড়িতে অত্যাচারও শুরু করেছে সে৷ ওই নাবালিকার ভাইকে আতঙ্ককে স্কুলে পাঠাতে পারছেন না অভিভাবকরা৷ এই ঘটনার পর তাঁর মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷

তিনি জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন, বীরভূমে নিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে নেশাচ্ছন্ন করে রেখে তার নগ্ন ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভুয়ো সাইটে তা পোস্ট করেছে ওই যুবক৷ ছাত্রীটির মায়ের ছবি দিয়েও তাঁর নামে অশ্লীল কথা লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ৷ এই ঘটনা বর্ধমান সদর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি৷ তাই বাধ্য হয়েই তিনি জেলা পুলিশ সুপারের পাশাপাশি জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে উপযুক্ত শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন৷

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ভারতীয় মানব অধিকার সংরক্ষণ সংঘের রাজ্য সভানেত্রী সংগীতা চক্রবর্তী এই ছাত্রী নির্যাতনের বিষয় সম্পর্কে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন৷ সংগীতাদেবী জানিয়েছেন, এই ঘটনার খবর পেয়েই তাঁরা সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোনে থাকা ওই নাবালিকার বিভিন্ন নগ্ন ছবিগুলি ডিলিট করে দিয়েছেন৷ কিন্তু পরে জানতে পারেন তার কাছে একটি ল্যাপটপ রয়েছে এবং সেখানেও ওই সমস্ত ছবি রয়েছে৷ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে তাঁরা এই ঘটনায় দোষীকে গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন৷

এই ব্যাপারে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি সম্পর্কে জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিককে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন৷

বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রিয়ব্রত রায় জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযোগ নেয়নি এই ব্যাপারটি সত্য নয়৷ একজন নাবালিকার উপর এই ধরনের নির্যাতনের ঘটনা অপরাধ৷ নির্যাতিতার পরিবার বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷