মুম্বই: ‘নাচ-গানে’ খরচ হচ্ছে খরা ত্রাণ তহবিলের টাকা, এই বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিল সব পক্ষ। ঘরে বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। জানিয়ে দিলেন, যে প্রশ্নে সবাই সুর চড়াচ্ছেন তা দেখে তিনি নিজেও অবাক। ফড়নবিশের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর খরার ত্রাণ তহবিলের টাকা কোনও অনুষ্ঠানে খরচ হচ্ছে না। ব্যাংককের অনুষ্ঠানের জন্য যে টাকা খরচ হচ্ছে তা অন্য তহবিল থেকে যাচ্ছে।”

কিছুদিন আগেই অনিল গালগালি নামের এক ব্যক্তির করা আরটিআই প্রকাশ্যে আসে। তা থেকে জানা যায়, ব্যাংককে সরকারি কর্মীদের নৃত্যানুষ্ঠান মঞ্চস্থ করার খরচ হিসাবে মহারাষ্ট্র মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে আট লক্ষ টাকা খরচ হয়। এর পরেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। কংগ্রেসের তরফে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফড়নিশকে একহাত নিয়ে বলা হয়, রাজ্যের কৃষকেরা খরায় মারা যাচ্ছেন আর মুখ্যমন্ত্রী তাঁর তহবিলের টাকা প্রমোদ অনুষ্ঠানে খরচ করছেন।fadnabish

গোপন সূত্রে খবর, বিতর্ক এতটাই তীব্র হয় যে বিজেপির অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন। ঘরে বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়েই এদিন মুখ খোলেন ফড়বিশ। কেবল আত্মপক্ষ সমর্থনই নয় মুখ্যমন্ত্রী তহবিলের নানান বিভাগও ব্যাখ্যা করতে শোনা যায় তাঁকে। গোয়া-মহারাষ্ট্র আইনজীবী বার কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে এসে শনিবার নিজের তহবিলের ব্যাখ্যা দিয়ে দেবেন্দ্র বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে মোট তিনটি ভাগ রয়েছে। একটি খরার ত্রাণ সংক্রান্ত, জলযুক্ত শিভার(পানীয় জল সংক্রান্ত) এছাড়াও অন্য একটি তহবিল রয়েছে, যার ২৫ শতাংশ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সাংস্কৃতিক কাজে খরচ করা যায়।” এর পরেই দেবেন্দ্রর যুক্তি, “আমি সেই তহবিল থেকেই ব্যাংককের অনুষ্ঠানের জন্য টাকা দিয়েছি।”

উল্লেখ্য, পারফরমিং আর্টের পঞ্চম সাংস্কৃতিক অলিম্পিয়াড হবে ব্যাংককে। সেখানেই নৃত্য পরিবেশনের জন্য মহারাষ্ট্রের ১৫ জন সরকারি কর্মীকে মনোনীত করা হয়েছে। আগামী ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ব্যাংককে অনুষ্ঠান করবেন তারা।