ভুবনেশ্বর: চলতি বছর নির্বিঘ্নে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়ে গেলে বোধহয় এহেন আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হত না। কিন্তু অতিমারি করোনা বদলে দিয়েছে সমস্ত হিসেব-নিকেশ। একবছর পিছিয়ে গিয়েছে টোকিও অলিম্পিক ২০২০। প্রতিযোগীতা নেই, স্পনসরশিপ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ প্রায় শেষ। স্বাভাবিকভাবেই অলিম্পিক প্রস্তুতির জন্য চরম অর্থাভাবে ভুগছেন দেশের অভিজ্ঞ স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ। অগত্যা আর কোনও উপায় না দেখে সাধের বিএমডব্লু গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ২০১৮ জাকার্তা এশিয়াডে জোড়া রুপোজয়ী।

২০২০ অলিম্পিকের কথা মাথায় রেখে স্পনসরশিপ বাবদ প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ প্রায় শেষ। স্বাভাবিকভাবেই একবছর পিছিয়ে যাওয়া অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে ওডিশা অ্যাথলিটের জন্য। অলিম্পিক স্থগিত হয়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকার তাঁর প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত যা অর্থসাহায্য করেছিল, তাও নিঃশেষিত। ডিসেম্বর অবধি স্পনসরশিপ বাবদ পুমার থেকে কেবল অর্থসাহায্য পাবেন তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ট্রেনার, ফিজিও সহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফদের পারিশ্রমিক সঙ্গে নিজের ডায়েট চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না দ্যুতির পক্ষে।

দ্যুতি বলছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে কারও পক্ষেই আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টা খুব সহজ নয়। কিন্তু একজন অ্যাথলিট হিসেবে আমার লক্ষ্য অলিম্পিক পদক জয়। আমি বসে বসে চোখের সামনে সবকিছু নষ্ট হয়ে যেতে দেখতে পারি না। কোভিড১৯ এবং লকডাউন আমার সমস্ত পরিকল্পনাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি ভাগ্যের সহায়তা চাইছি এবং আগের ট্র্যাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে যেতে চাইছি।’

২০১৮ দ্যুতি ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে বিএমডব্লু থ্রি সিরিজের একটি গাড়ি কিনেছিলেন। দুঃসময়ে আর্থিক সমস্যার সুরাহা করতে সেই সাধের গাড়িটিকেই তাই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তাঁর বিএমডব্লু গাড়িটির ছবি পোস্ট করে দ্যুতি লিখেছেন, ‘আমি আমার বিএমডব্লু গাড়িটি বিক্রি করতে চাই, কেউ কিনতে আগ্রহী হলে আমার সঙ্গে ম্যাসেঞ্জরে যোগাযোগ করুন।’ দ্যুতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন সিদ্ধান্তটা তাঁর পক্ষে নেওয়া খুব কঠিন ছিল। কিন্তু অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়ায় নিজের সাহায্যের জন্য এটা তাঁকে করতেই হচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।