সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : শিক্ষার আলোয় ভাসবে হলদিয়ার পূর্বে হুগলি নদীর বুকে জেগে ওঠা চর “মিনদ্বীপ” বা আজকের “নয়াচর”। সৌজন্যে ফেসবুক গ্রুপ ‘পুরনো কলকাতার গল্প’। মূলত কলকাতার হেরিটেজ স্থান নিয়ে কাজ করলেপ পাশাপাশি অনেক সামাজিক কাজ করে থাকে এই গ্রুপ। সম্প্রতি গঙ্গাসাগর মেলায় বিপুল পরিমানে মাস্ক বিতরণ করে এই ফেসবুক গ্রুপ। এবার অশিক্ষায় ডুবে থাকা দ্বীপে শিক্ষার আলো জালাতে উদ্যোগী হয়েছেন তাঁরা। তৈরি হবে স্কুল।

‘পুরনো কলকাতার গল্প’-র তরফে জয়ন্ত সেন বলেন, ‘এখানে অন্ধকার অনেক। বিদ্যুতের ব্যবস্থাহীন ৬৫ বর্গ কিলোমিটারের প্রায় ৩৫০০ পরিবারের কোনও শিশু আজও শিক্ষার আলো দেখেনি। অভিবাবকদের বক্তব্য মনের আলো যখন নিভে গেছে তখন লেখাপড়া কী এমন আলো দেখাবে। তাই আমরা স্থির করি প্রাথমিক শিক্ষার উপযুক্ত স্কুল তৈরি করব। প্রচুর সাহায্যের হাত উঠে আসছে। কলকাতায় সর্বশিক্ষা মিশনের চেয়ারম্যান সর্বশ্রী কার্তিক মান্না’র সঙ্গে দেখা করে এসেছি। উনি আগে থেকেই আমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে খোঁজখবর রেখে চলেছেন। খুব খুশি হয়েছেন এবং আমাদের চিঠিতে নোট দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের চেয়ারম্যান’র সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ব্যবস্থা করিয়ে দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে আমাদের স্কুল তৈরির কাজ।’

প্রসঙ্গত নয়াচর পশ্চিমবঙ্গ এর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত একটি নদীর চর বা দ্বীপ। এটি হুগলি নদীর মহনা থেকে ৪০ কিলোমিটার উজানে হলদিয়া বন্দরের পূর্ব দিকে অবস্থিত। এই দ্বীপটিতে শুধু মাত্র জেলে মাছ আহরনের জন্য অস্থায়ি ভাবে বসবাস করে। জোয়ার এলেই এই দ্বীপের অনেক অংশ ডুবে যায়। চরের পূর্ব দিকে রয়েছে ঘোরামারা দ্বীপ,সাগর দ্বীপ ও পশ্চিম দিকে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর এর হলদিয়া শহর ও বন্দর। এমন এক জায়গায় শিক্ষার আলো নেই। সেই চেষ্টাই করছে পুরনো কলকাতার গল্পের সদস্যরা।

দ্বীপ এক সময় খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। রসায়ন তালুক তৈরির জন্য চিহ্নিত হয়েছিল নয়াচর। বাম আমলে প্রস্তাব ছিল পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা ঢেলে তৈরি হবে তালুকের পরিকাঠামো। সেই পরিকাঠামোর টানে আসার কথা ছিল পেট্রোপণ্য উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট অনুসারী শিল্পের। পরিকল্পনা স্তরেই আটকে যায় প্রকল্প। পরিবেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র মেলেনি। এর মাঝেই রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে। ঠিক হয় নয়াচরে রসায়ন তালুক তৈরি হবে না। পরিবেশ বাঁচিয়ে তৈরি হবে পর্যটন, হালকা শিল্প ও বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাজ্য সরকার ও বিনিয়োগকারী, দু’পক্ষই রাজি হয়। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী ৬০০০ একর জমিতে পর্যটন শিল্প তৈরির কথা ছিল। ৪০০০ একরে শিল্প তালুক গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, নিকাশি, জল, ইত্যাদি পরিষেবার পরিকাঠামোর জন্য ১০২৮ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৫০ থেকে ৪০০ একর জমিতে নয়াচরের বাসিন্দাদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি প্রস্তাব ছিল।

কিন্তু এই প্রকল্পও আলোর মুখ দেখেনি। এক দিকে অভিযোগ ওঠে, শুধুমাত্র জমি নেওয়ার লক্ষ্যেই বিনিয়োগকারীর ‘উৎসাহ’ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য নতুন করে নয়াচর নিয়ে পরিকল্পনা করেন। নয়াচরে পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন প্রকল্প তৈরি হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন অনেক আগেই।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।