প্রসেনজিৎ চৌধুরীঃ ”হসপিটাল থেকে ফিরে এসে বাড়িতে তুমি রেস্ট নিবে। এরিক গান শুনাবে তোমাকে, আমি পিয়ানো বাজাবো বা তোমার প্রিয় ফিসফ্রাই রান্না করব। সন্ধ্যায় আড্ডা দিব। মা, বাবা ও ছেলে লুডু খেলব। বা, আমি নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বাপ-ছেলেকে কাবাব খাওয়াতে নিয়ে যাব, খেলার বাজিতে হেরে গেলে।

’আজও কিন্তু আমি অপেক্ষায় থাকলাম নীল শাড়িটির ভাঁজ খুলবো, এ আশায়- বিদিশা।”

এক জবরদস্ত সেনাশাসক থেকে স্বৈরাচারী ও কবি প্রেমিকের জন্য প্রাক্তন স্ত্রীর বার্তা-নাহ্ ভালোবাসা বলা ভালো। সেনাশাসকের জীবনে ভালোবাসা!! যার রক্ত চোখে বাংলাদেশে লুণ্ঠিত হয়েছিল গণতন্ত্র তিনিও কিন্তু কবি ছিলেন। লিখতেন-জোর করে নিজের লেখা প্রকাশ করাতেন সংবাদপত্রে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি মননে প্রবল বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল। আশি-নব্বই দশকের সেই স্বৈরশাসন অবসানে শুরু হয় ব্যাপক গণআন্দোলন। তারই ধাক্কায় পতন হয় এরশাদের। সেই স্বৈরশাসক প্রয়াত হয়েছেন রবিবার। ৯১ বছরের এরশাদ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধী নেতা তথা জাতীয় পার্টির সুপ্রিমো।

এদিকে এরশাদ যখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তখন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী তথা প্রেমিকা বিদিশা বিভিন্ন সময়ে আবেগময় পোস্ট করেছিলেন। তারই একটি ছিল তুমি ফিরে এলেই সেই নীল শাড়িটির ভাজ খুলব…

রবিবার এরশাদের প্রয়াণের পর থেকেই ফের ফেসবুকে আবেগময় পোস্ট ও বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বিদিশা। । প্রেমিক তথা প্রাক্তন স্বামীর জন্য প্রার্থনা জানাতে এসেছিলেন রাজস্থানের বিখ্যাত আজমেঢ় শহরের খোয়াজা মৈনুদ্দিন চিস্তি সাহেবের দরগায়। সেখানেই পেয়ে যান দুঃসংবাদটি।

বিদিশা লিখেছেন-‘এ জন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমীর শরীফ আসলাম আর তুমিও চলে গেলে। এতো কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়া তে যেখানে থাকবেনা কোনো রাজনীতি।’

এরপরেই বিতর্ক উস্কে দেন তিনি। দাবি করেন তাঁর ও এরশাদের পুত্র এরিক অসুস্থ। অথচ তাকে পিতার মৃতদেহের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। ঢাকায় ফিরে এরশাদের শেষ যাত্রায় সামিল হওয়ার দাবিও জানান বিদিশা।

এরশাদকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিদিশা। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শেষ যাত্রা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। তাঁর সমাধি হোক সেনা কবরস্থানে এমনই দাবি জাতীয় পার্টির। আর এরশাদের প্রিয় স্থান রংপুরবাসী চাইছেন-সেখানেই হোক সমাধি। সবমিলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরশাদের সঙ্গে বিদিশার বিয়ে হয় ২০০০ সালে। তাঁদের ২০০৫ সাল পর্যন্ত দাম্পত্য জীবন। এরই মাঝে জন্ম হয় পুত্র এরিকের। আর এরশাদের প্রথম স্ত্রী হলেন রওশন। তিনি জাতীয় পার্টির অন্যতম নেত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের গতবারের প্রধান বিরোধী নেতা। চলতি জাতীয় সংসদে এরশাদই ছিলেন বিরোধী নেতা। বিদিশা বরাবরই এসব থেকে দূরে। তবু তিনি মাঝে মধ্যেই বিতর্ক তুলেছেন। যেমনটা হয়েছে প্রেমিকের মৃত্যুর পরে।

নীল শাড়িটির ভাজ খুলবেন না আর বিদিশা। সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে থাকবেন তাঁর প্রেমিক এরশাদের দেহ। আর মনে থাকবেন চিরন্তন হয়ে।

সেনা শাসকের কপালে এমন দুর্লভ ভালোবাসা…