লেহ ও নয়াদিল্লি: বিখ্যাত প্যাংগং লেকের জলসীমান্তে ভারত ও চিনা সেনার মুখোমুখি অবস্থানে ফের উত্তেজনা। বুধবার ভারতীয় সেনারা টহল দেওয়ার সময়ে চিনা সৈন্যরা বাধা দেয়। এর জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা এই খবর জানাচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে সাময়িক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে যায়। পরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি আপাত শান্ত।

প্যাংগং লেক বিশ্বের অন্যতম উচ্চ আন্তর্জাতিক জলসীমান্ত। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এল এ সি রেখা যা ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত হিসেবে পরিচিত সেটি এই হ্রদের উপর দিয়ে গিয়েছে। প্যাংগং হ্রদের দুই তৃতীয়াংশই অংশ চিনের দিকে পড়ে।

সীমান্তের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আগেও হয়েছে। বিশেষ করে লাদাখ লাগোয়া অংশে চিনের দিক থেকে সেনা ঢুকে পড়ে। প্রতিবারই ভারতের তরফে তাদের রুখে দেওয় হয়।

বৃহস্পতিবার প্যাংগং লেকের সীমান্তে দুই দেশের সেনার মুখোমুখি উত্তপ্ত পরিবেশ থামার পর এলাকায় নজরদারি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত এই ভূখণ্ড বরাবর কিছু জমি দুই দেশই দাবি করে। তবে কোনওবারই এল এ সি পার করে ভারতীয় সেনা ঢুকে পড়েনা।

সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা দুই তরফেই লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এল এ সি) নিয়ে আলাদা পদ্ধতির জন্য হয়েছে।

লাদাখের মতো এই সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আগেও হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা পার করে ঢুকে পড়ে চিনের সেনা। আবার ভারত-ভুটান-চিনের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা ভূখণ্ড ডোকলামেও চিনা সেনার অনুপ্রবেশ তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল।

ডোকলাম সমস্যা সাময়িক নরম। এর মাঝে ভারত ও চিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হতে শুরু করেছিল। এর মাঝেই লাদাখের প্যাংগং হ্রদের সীমান্তে চিনা সেনার বাড়াবাড়িতে ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি।

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে লাগু থাকা ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত। এর ফলে এটি এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। তারই অংশ লাদাখ। ধারাটি বাতিলের পরেই ক্ষোভ জানায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদের পাশেই দাঁড়ায় বেজিং। তারপরেই প্যাংগং হ্রদ বরাবর চিনা সেনার বাড়তি কদমে উত্তেজনার রেশ ছড়িয়েছে।