সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বুড়ো হওয়ার ধুম। সেলেব হোক কিংবা সাধারণ মানুষ। বুড়ো হচ্ছে সবাই। ইতিমধ্যে গোটা বিশ্বজুড়ে ফেসঅ্যাপ বেশ নজর কেড়েছে। এরইমধ্যে অনেকেই জেনে কিংবা কেউ কেউ না জেনেও ফেসঅ্যাপ ব্যবহার করেছেন। শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই ফেসঅ্যাপের ছোঁয়া লেগেছে।

ইউজাররা নিজেদের বুড়ো হওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। বর্তমান এই যুগে যে কোনও অ্যাপ ব্যবহারই বিপজ্জনক, এমনটাই বলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। আর এটা জেনেও নিজের বুড়ো চেহারা দেখার ‘লোভে’ ফেসঅ্যাপে ঢুঁ মেরেছেন অনেকেই।

পড়ুন আরও- ইতিহাস গড়ে ভুটান থেকে বাংলাদেশ গেল ভারতীয় জাহাজ

যে কোনও অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি যাওয়ার ভয় থাকে। আর ফেসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও ছিল। শুরু থেকেই অনেক সাইবার বিশেষজ্ঞই তা নিয়ে সতর্ক করেছেন। ফের একবার সতর্ক করলেন তারা। মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ফেসঅ্যাপ মানুষকে তাদের মুখভঙ্গি পরিবর্তন এবং বয়স বাড়িয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। বিনিময়ে মানুষ ফেসঅ্যাপকে দিয়েছে তাদের নাম এবং ছবি ব্যবহারের ক্ষমতা। অর্থাৎ ফেসঅ্যাপ এখন চাইলেই যে কোনও কাজে এসব নাম এবং ছবি ব্যবহার করতে পারে।

পড়ুন আরও- রাজ্যের এই সমস্ত সরকারি কর্মীদের জন্যে সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা

হিসাব বলছে, গুগল প্লে-স্টোর থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ কোটিরও বেশিবার ফেস অ্যাপটি ডাউনলোড হয়েছে। আর ১২১টি দেশে থাকা আইওএস অ্যাপ স্টোরে বর্তমানে শীর্ষে থাকা অ্যাপ হল ফেসঅ্যাপ। এসব হিসাবই বুঝিয়ে দিচ্ছে মানুষ এই অ্যাপের প্রতি কতটা ঝুঁকেছেন। প্রতিটি অ্যাপেরই কিছু ব্যবহারবিধি এবং শর্ত (টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস) থাকে। বেশিরভাগ অ্যাপের ক্ষেত্রে আমরা সেগুলো না পড়েই অ্যাগ্রি বোতামে দিয়ে দিই। ফেসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও হয়ত অনেকেই না পড়ে সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু তারা কি জানেন এই অ্যাপের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে কী লেখা আছে?

এটা জানলে এখন হয়তো আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন। তাদের সেই নিয়মে পরিস্কার লেখা আছে, ফেসঅ্যাপ এসব তথ্য শর্তহীনভাবে আজীবনের জন্য যে কোনও কাজে ব্যবহার করতে পারবে। এমনকি যে কারও সামনে এগুলো সামনে তুলে আনতে পারবে। যারা ফেসঅ্যাপ এরই মধ্যে ব্যবহার করেছেন তারা এই কথাগুলোতে সম্মতি দিয়েই করেছেন। সময় যত যাবে প্রযুক্তি ততই এগোবে। একসময় হয়তো আপনার ছবি দিয়েই বিভিন্ন সেবা কিংবা অর্থ লেনদেন করা যাবে। আমরা তো স্মার্টফোনে এখনই ফেসলক ব্যবহার করছি। এবার ভাবুন, ফেসঅ্যাপ ব্যবহার করা ঠিক হলো কিনা।