ব্যারাকপুর: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে গৃহবধূর প্রেমিককে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল এক দম্পতিকে । ধৃত ওই দম্পতির নাম সৌমিত্র হালদার ও সোনালি হালদার । চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর থানার অন্তর্গত হালিশহর লক্ষী নারায়ন পল্লী এলাকায় । শনিবার গভীর রাতে ওই দম্পতিকে তাদের হালিশহরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে বীজপুর থানার পুলিশ ।

পুলিশ সূত্রের খবর, হালিশহর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নির্মীয়মাণ সেফটিক ট্যাঙ্ক থেকে গত ২৭ শে নভেম্বর সকালে পুলিশ এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ছিল । পরে বীজপুর থানার পুলিশ খোঁজ নিয়ে পুলিশ মৃত যুবকের নাম ও পরিচয় জানতে পারে । মৃত ওই যুবকের নাম জানা যায় মিলন খাঁ (২০) । এরপরই পুলিশ ওই দেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে খুনের ঘটনা জানতে পারে ।

তারপরই হালিশহর লক্ষী নারায়ন পল্লী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওই যুবককে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতি সৌমিত্র হালদার ও তার স্ত্রী সোনালী হালদারকে । পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে মৃত যুবক মিলন খাঁ বর্ধমান জেলার ধানতলা এলাকার বাসিন্দা । সে দিন মজুরের কাজ করত । ফেসবুকে তার সঙ্গে পরিচয় হয় হালিশহরের গৃহবধূ সোনালীর । তারপর থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয় । তবে সোনালীর স্বামী পেশায় মার্বেল মিস্ত্রি সৌমিত্র তার স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পেরে যায় ।

এরপর সে তার স্ত্রীকে ও ওই যুবক মিলন খাঁকে সতর্ক করে । গত ২৬ শে নভেম্বর রাতে মিলন জোর করে সোনালীর সঙ্গে তার হালিশহরের বাড়িতে দেখা করতে আসলে তা জানতে পারে সোনালীর স্বামী সৌমিত্র । এরপরই সৌমিত্র ও সোনালী মিলে তাদের হালিশহরের বাড়িতেই শ্বাসরদ করে খুন করে মিলনকে । ২৭ শে নভেম্বর দেহ উদ্ধার করা হয় মিলনের ।

পুলিশ মৃতের দেশের বাড়ি বর্ধমান জেলায় খবর পাঠালে মৃতের পরিবারের সদস্যরা বীজপুর থানায় এসে অভিযুক্ত দম্পতির কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন । বীজপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত দম্পতিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে । বীজপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দম্পতি পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে । ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ এই খুনের ঘটনার পুনঃনির্মাণ করবে পুলিশ ।