স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: টালা ব্রিজ ভাঙ্গা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি রাজ্য সরকার৷ তবে টালা ব্রিজের উপর দিয়ে ভারী গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায়, সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা৷ এবার সেই যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে পরিবহন দফতর৷

টালা ব্রিজ নিয়ে শুক্রবার পরিবহণমন্ত্রী একটি বৈঠক করেন৷ সেখানে হাজির ছিলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিক, কলকাতা পুরসভার, রেল ও রাইটসের প্রতিনিধিরা৷ পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পরিবহণমন্ত্রী৷

বৈঠক শেষে শুক্রবার ময়দান তাঁবুতে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, টালা ব্রিজ বন্ধে যাত্রী সুবিধার্থে কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ খোলা হচ্ছে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম৷ অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমটি হবে বেলগাছিয়াতে৷ এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন রুটে ৫০টি অতিরিক্ত মিডিবাস চালাবে রাজ্য পরিবহণ নিগম৷ ইতিমধ্যেই ২৮টি ৩৪ আসনের বাস চালাচ্ছে দফতর৷ সেগুলো ডানলপ, হাওড়া, পাইকপাড়া, বেলগাছিয়া রুটে চলছে৷ অতিরিক্ত মিনিবাসও চালানো হবে৷ ঘুর পথে বাস,মিনিবাস চললেও তাতে বাড়তি ভাড়া দিতে হবে যাত্রীদের।

হাওড়া এবং মিলেনিয়াম পার্ক জেটি থেকে কুঠিঘাট পর্যন্ত জলপথে ১০ টি লঞ্চ চালানো হবে। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত লঞ্চ পরিষেবা দেওয়া হবে৷ তাছাড়া বাড়ানো হয়েছে চক্ররেল৷ বেড়েছে মেট্রো রেলও৷ চালানো হবে অতিরিক্ত অটো৷ তবে কোথাও কোনও অনিয়ম হচ্ছে কি না,তার উপরেও নজর রাখা হবে বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে৷

অন্যদিকে শুক্রবার বাস মালিক সমিতিও একটি বৈঠক করেছে৷ জয়েন্ট কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, টালা ব্রিজ বন্ধের ফলে ঘুরপথে বাস বাস চালাতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন মালিকেরা। বাস চালাতে গিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে, সেই তুলনায় আয় হচ্ছে না। এছাড়া প্রশাসনের নির্দেশে রুট পরিবর্তন করায় যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। তার ফলে বেশ কিছু বাস চলছে না৷

উল্লেখ্য,টালা ব্রিজ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে। এমনই রিপোর্ট জমা পড়েছে নবান্নে। যদিও দুর্গাপুজোর আগেই ভারী যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। টালা ব্রিজের উপর দিয়ে যে সব বাস চলাচল করতো, সেই বাস ঘুর পথে চলছে। তার জন্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বাস মিনিবাস মালিকেরা।

সূত্রের খবর, টালা ব্রিজ নিয়ে নবান্নে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ব্রিজ বিশেষজ্ঞ ভি কে রায়না। পঞ্চমীর দিন টালা ব্রিজ পরিদর্শন করেন মুম্বইয়ের একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থা। ওই সংস্থার পক্ষে ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।