সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: বিকট আওয়াজ৷ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছে এলাকা৷ মহূর্তে সব ওলোট-পালোট৷ আপাত শান্ত কাজিপাড়ায় তখন রক্তের স্রোত৷ চার দিকে রাস্তায় পড়ে মানুষ৷ বারুদের গন্ধ৷ কিছুই বুঝতে পারছেন না কেউ৷ ভয়ার্ত চোখে কেবল ইতি উতি চাউনি৷ মঙ্গলবার সকালের কথা মনে করলেই শিউড়ে উঠছেন স্থানীয়রা৷ কথা বলতে গেলেই গলা বুঝে আসছে প্রত্যক্ষদর্শীদের৷

নাগেরবাজারে বিস্ফোরণ স্থল লাগোয়া বাসন্তী সুইটস৷ সেখানেই কাজ করেন অরুণ ভুইঁয়া৷ ঘটনার সময় দোকানেই ছিলেন তিনি৷ সেই সময়কার বিবরণ দিতে গিয়ে আঁতকে উঠছেন তিনি৷ অরুণবাবুর কথায়, ‘‘আজকের এইদিনের কালো স্মৃতি কোনও দিন ভুলতে পারব না। এমন দৃশ্য চোখে দেখা যায় না। একটু ধাতস্ত হতেই দোকানের বাইরে এসে দেখি বিস্ফোরনের জেরে আহতরা রাস্তায় পরে কাতরাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকজনই চেনা।’’

বিস্ফোরণের জেরে আহত হয়েছেন অরুণ নিজেও৷ দোকানে শোকেসের কাচ ভেঙে হাত কেটে গিয়েছে তাঁর৷ কিন্তু ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন,‘‘আরও বড় কিছুও হতে পারত৷ বরাত জোড়ে বেঁচে গিয়েছি৷’’ অরুণের কথায় সবই অদৃষ্টের লিখন৷

আতঙ্কের সঙ্গেই মিশে আছে হতাশা৷ চোখের সামনে ৭ বছরের শিশু বিভাষকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখেও কিছু করতে না পারায় যন্ত্রণা৷ নিজেই জানালেন, ‘‘বিভাষকেও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সেই সময় কি করব বুঝতেই পারছিলাম না। যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল ও। ছেলেটাকে খুব ভাল করে চিনতাম। ওর বাবা এই মিষ্টির দোকানের মতিঝিল শাখায় কাজ করে। শুনলাম ছেলেটা মারা গিয়েছে। ওর কাতরানো মুখটা ভুলতে পারছি না৷’’

আরও পড়ুন: নাগেরবাজার বিস্ফোরণ: ফরেনসিক তদন্তের আগেই সাফাই অভিযান ঘিরে প্রশ্ন

শুধু অরুণ ভুঁইয়াই নন৷ কাজিপাড়ার বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের অপর নাম এখন এদিন সকালের বিস্ফোরণ৷ কোথা থেকে কারা এই বোমা রেখে গেল তা বুঝে উঠতে পারছেন না তারা৷ ভয় ধরা গলায় তারা শুধু বলছেন ‘চোখের নিমেশে সব ওলোট-পালোট হয়ে গেল৷’