নয়াদিল্লি ও আগরতলা: তিনি বিরক্ত। ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জানিয়েছেন এমনই। পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁকে শাহ সরাসরি সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের আহ্বান জানান।

এই ঘটনা তিক্ত অভিজ্ঞতা বলেই জানিয়েছেন বাম সাংসদ ঝর্ণা দাস বৈদ্য। আগরতলা ও জাতীয় স্তরের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে তাঁর মন্তব্য প্রকাশিত হতেই আরও বিতর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল আলোড়িত।

ঝর্ণা দাস বৈদ্যকে যেভাবে অমিত শাহ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তাতে ক্ষুব্ধ সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও বিষয়টি জানান সাংসদ।
তবে ঝর্ণাদেবী আরও জানান, বিজেপিতে যোগদানের আহ্বান ফিরিয়ে দেওয়ার পরেই অমিত শাহ দুঃখ প্রকাশ করেন।

বাম সাংসদ জানিয়েছেন- লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপি তরফে হামলায় রক্তাক্ত ত্রিপুরা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তখনই তিনি আমাকে বিজেপিতে যোগ দিতে আহ্বান জানান। অমিত শাহ বলেছিলেন- ত্রিপুরায় সিপিএম শেষ, আপনি দলত্যাগ করে বিজেপিতে আসুন।

ঝর্ণাদেবী আগরতলার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন- আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। তারপর বলি, যতদিন একজন বামপন্থী থাকবেন ততদিন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতির কথা জানাতে এসেছি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কাছে আসিনি।

ত্রিপুরায় আগামী ২৭ জুলাই পঞ্চায়েত নির্বাচন। ৮৫ শতাংশ আসনেই বিজেপি জয়ী। বিরোধী বাম ও কংগ্রেসের অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত ভোট লুঠ করেছে ঠিক একই কায়দায় ত্রিপুরাতে ভোট লুঠ করছে বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে টানা দু’দশকের বাম শাসনের শেষে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে।