অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত লেগেই রয়েছে। এরই মাঝে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলের জন্য উপহার পাঠান রাজ্যপাল। অনেকেই ভেবেছিলেন– বরফ কি তবে এবার গলতে চলেছে? কিন্তু নয়! সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বোমা ফাটান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি দাবি করেন যে, একজন পর্যটক হয়ে এ রাজ্যে বেড়াতে আসেনি তিনি। তিনি এসেছেন কাজ চান। মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাজ্যপালের নানা আলটপকা কথবার্তাকে কটাক্ষ করলেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। kolkata24x7-কে শুভাপ্রসন্ন বলেন, “এর আগে আমি যত রাজ্যপাল দেখেছি তাঁরা কখনও রাজনৈতিক সীমা লঙ্খন করেননি। জগদীপ ধনকড় যখন এলেন তাঁর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে। তিনিই আমার সঙ্গে রাজ্যপালের আলাপ করিয়ে দেন। আমার পরিচয় জেনে উনি খুব সবিনয়ে বলেছিলেন, আমার ইচ্ছে রইল আর্টস একরে যাবার।

এরপর আর খুব বেশি সুযোগ হয়নি রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের। কিন্তু, ওনার যে একটা অতি সক্রিয়তা, যেটা বিশেষ করে করছি একজন পার্টিম্যান হিসেবে কথাবার্তা এবং প্রশাসনে অহেতুন নিজের ইনভলব হওয়ার চেষ্টা বা নিজেকে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা বা তথাকথিত আদেশ-উপদেশ– এগুলো এর আগে আমি কোনও রাজ্যপালের ক্ষত্রে দেখিনি।

আমি জানি যে অনেক রাজ্যপালের সঙ্গে আমাদের সরকারের সংঘাত হয়েছে। সিপিএম আমলেও অনেক কিছু হয়েছে। তাঁরা হয়তো কখনও কখনও বিশেষ মতামত দিয়েছে বা দিতে চেয়েছেন কিন্তু সরকার গ্রহণ করেনি। তবে অযাচিত ভাবে প্রশাসনের কাজে হঠাৎ করে চলে যাওয়া, কখনও উনি বলছেন যে, এই শহর এবং এই দেশ পৃথিবীর সব চেয়ে বড় সংস্কৃতির জায়গা। আমি প্যারিসে থেকেছি, আমি মনে করি প্যারিসের থেকেও পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতা কালচারাল সিটি এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কখনও বলছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী বিরল। তিনি পরিশ্রম করেন এবং আমাদের এই রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আবার পরক্ষণেই নানান রকম উলট পালট কথাবর্তা। কোনও কিছুরই ধারাবাহিকতা নেই। কখনও উনি শিক্ষামন্ত্রীর ঘাড়ে হাত দিয়ে তাঁর সঙ্গে বন্ধুর মতো ব্যবহার করছেন। আবার ফীরে এসেই তাঁকে গালি পাড়ছেন। তাঁর জীবনযাপন কথপোকথন সবকিছুর মধ্যেই যে একটা ধারাবাহিকতাহীন ব্যবহার– সেটা সাধারণত রাজ্যপালের কাছ থেকে আমরা আশা করি না।

একজন নাগরিক হিসেবে আমার কিছু বলার অধিকার আছে। আমরা গণতন্ত্রকে মেনেছি। রাজ্যপালের আসন অত্যন্ত সম্মানের। তিনি সাধারণত এই সরকারের মধ্যমণি হয়ে, সরকারের আইনগত যা কিছু সেটাকে মেনে নিয়ে উনি ভাষণ দেন। সাধারণত প্রশাসন থেকে যে কথা লিখে দেওয়া হয় রাজ্যের ব্যাপারে, উনি শুধু পড়েন মাত্র। উনি নিজের লেখা পড়তে পারেন না। এই ধরণের কতগুলো জিনিস আমার কাছে নতুন মনে হয়েছে। এই ধরনের আচরণ না করলেই বোধ হয় সংবিধানের উপযুক্ত ব্যবহার হত।”