শুভঙ্কর চক্রবর্তী, কলকাতা: ব্যোমকেশ-সত্যবতী এক ফ্ল্যাটে ? তাই তো বলছেন ‘অন্তর্লীন’ ছবির পরিচালক অরিন্দম ভট্টাচার্য৷ তাঁর প্রথম ছবি ‘অন্তর্লীন’ সমালোচকদের কাছে বেশ সমাদৃত৷ সেই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারও জেতেন অরিন্দমবাবু, কিন্তু পরিচিতি ছিল সামান্যই৷ পরের ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে আপাতত রেডি অরিন্দম ভট্টাচার্য ৷

ফোনে ধরা হল তাঁকে তবে রেখে ঢেকেই তাঁর ছবি ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’ নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন পরিচালক৷ যিনি আবার শুধু পরিচালক নন, পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টও৷

এমন অদ্ভুত নাম কেন ছবির? ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’?
আসলে প্রথম ছবির নাম অন্তর্লীন রাখার পর অনেকই জিজ্ঞেস করেছিল শব্দটির মানে কি? তাই এবার ওই সমস্যায় যেন না পড়তে হয় তাই এই নাম (হাসি)৷ আরও একটি কারণ রয়েছে, এই ছবির পোস্টার লঞ্চ ৮ তারিখ, পোস্টার দেখলে দর্শকদের আরও অদ্ভুত লাগবে৷ খেয়াল করে দেখবেন ইংরেজিতে ‘৬০৯’ লেখার পর একটা প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়, 6 উল্টে গেলেই 9, এবং 9 উল্টে গেলেই আবার 6৷ ইংরেজিতে ‘6’ ডিনোটস ডেথ বা মৃত্যু৷ যা এই ছবির ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকও বটে৷

গল্পটি যদি…
সোহিনী-আবির নতুন বিয়ে করে৷ নব-দম্পতি রাজারহাটে নতুন একটি ফ্ল্যাট কেনে৷ এই ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে ব্রোকার রুদ্রনীল, ফ্ল্যাট কেনার সময় অদ্ভুত সব শর্তাবলীও ছিল৷ সেই সব শর্তাবলী মেনেও নেন সোহিনী-আবির, কারণ ফ্ল্যাটটি বেশ পছন্দ হয়ে যায় তাঁদের৷ সেই ফ্ল্যাটে ঢোকার পরই সবকিছুই অদ্ভুত লাগতে শুরু করে ওঁদের৷ ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি গার্ড থেকে দুধওয়ালা সবারই কেমন যেন এক অদ্ভুত আচরণ৷ পরিচারিকা কাজ করতে মানাও করে দেয় কিছুদিন বাদে৷ এই সব কারণেই আস্তে আস্তে সোহিনী-আবিরের বৈবাহিক সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়ে যায়৷ সেই টানাপড়েন পাল্টে যেতে থাকে দুশ্চিন্তা এবং ভয়ে৷ এই পরিস্থিতির জন্য কে বা কারা দায়ী? শেষ পর্যায়ে একটি মারাত্মক ট্যুইস্টও আছে এই ছবিতে৷ যা আপনি যতই জিজ্ঞেস করুন না কেন আমি বলব না!

‘ব্যোমকেশ’ জুটি রিপিট হচ্ছে এই ছবিতে?
না না একেবারেই নয়! ‘ব্যোমকেশ’ ভেবে আমি আবিরকে কাস্ট করিনি৷ আবির এই ছবিতে একজন আইটি প্রফেশনাল৷ স্মার্ট লুক৷ বাংলা সিনেমায় ওর মতন এই লুকের অভিনেতা খুব কমই আছে৷ এই ছবির চরিত্রের জন্য আর কোন অভিনেতাকেই নিতে পারতাম না৷ অন্যদিকে আমি এই ছবিতে কোন সুন্দরী নায়িকা চাইনি৷ সোহিনীর লুক একটু ঘরোয়া গোছের কিন্তু বেশ স্মার্ট, এবং তাতে আবার সরলতাও রয়েছে৷ আমি ছবির স্ক্রিপ্টের ডিমান্ড অনুযায়ী চরিত্রের অভিনেতাদের বেছে নিই, এক্ষেত্রেও অন্যথা হয়নি৷ বাদ বাকি চরিত্রগুলোতে রয়েছেন সৌমিত্রবাবু ও মমতা শংকর৷ তাঁরা এই ছবিতে আরেকটি অদ্ভুত দম্পতি৷ খরাজ মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ৷ তবে হ্যাঁ ‘ব্যোমকেশ’ ছবির মত মিস্ট্রিটা রয়েছে এই ছবিতে৷ ‘অন্তর্লীন’এ থ্রিলার ছিল৷ এই ছবিতে রয়েছে হরর৷ মোর অফ আ সাইকোলজিকাল গেম চলবে গোটা গল্প জুড়ে৷

তোমার ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’এ ছবির এক্স ফ্যাক্টর কি?
এই ছবির গল্প আমারই লেখা৷ বেশ বুক ফুলিয়েই বলছি এটাই ‘এক্স -ফ্যাক্টর’৷ এই ছবিতে ‘হিরো’ গল্পই, সহকারী অভিনেতা হল আবীর সোহিনী এবং অন্যেরা৷ আজকাল হিরো-হিরোইন দেখতে সিনেমাহলে টিকিট কেটে কেউ সিনেমা দেখতে আসে না৷ তাঁরা মুখিয়ে থাকে ছবির গল্পটা কেমন? সেই গল্পটি নিয়েই বাড়ি ফেরে৷ তপন সিংহের সব ছবিতে কি উত্তমবাবু অভিনয় করেছিলেন? কিন্তু দেখবেন ছবি হিটের মূল কারণ ছিল ওই গল্পই৷

কবে তোমার ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’ ঢুকবে দর্শক?
এখন তো স্ক্রিপ্ট রিডিং শেষ হল৷ এই বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই রিলিজ করবে ছবি৷