অরুণাভ রাহারায়: করোনার জেরে সারা দেশে চলছে লকডাউন। এই অবস্থায় ওষুধ, বাজার-সহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ঘরের বাইরে যেতে জনগণকে ছাড় দিয়েছে সরকার। কলকাতার রাস্তায় প্রতিদিনই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সাহায্য করার ছবি ইতিমধ্যেই অনেকের চোখে পড়েছে। তবে নিজের ও সমাজের সচেতনার কথা মাথায় রেখে অনেকেই বাড়ি থেকে বেরতে চাইছেন না। এই কারণে বিশেষত বয়স্ক মানুষদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই।

কলকাতা শহরের প্রবীন নাগরিক তথা বিশিষ্ট নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। শনিবার এক সংবাদ মাধ্যমে বিভাসবাবুর এই সমস্যার কথা সম্প্রচারিত হয়। তারপরেই অবশ্য তাঁকে সাহায্য করার জন্য অনেকে এগিয়ে আসেন। স্বজন ও গুণমুগ্ধদের এই সদর্থক ভূমিকায় এখন অনেকটাই চিন্তামুক্ত তিনি।

এরপরই kolkata24x7কে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিভাস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “আমার কাছে মিডিয়া জানতে চেয়েছিল, আমি কেমন আছি। বলেছিলাম, ভালোই আছি, নিষেধ মেনে গৃহবন্দী থাকছি। একটাই সমস্যা। আমি এবং আমার স্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের পেনশনার। আমরা সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বিনা খরচে চিকিৎসা ও ওষুধ পাই। এই বিশেষ অবস্থায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়াই চিকিৎসা কেন্দ্র প্রয়োজনীয় ওষুধ দেবার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেই ওষুধ আনবে কে? সেটাই সমস্যা। কাকে পাঠাব?

রাজ্য সরকার বা পুলিশ যদি এই ব্যাপারে আমাদের মতো প্রবীণ নাগরিকদের একটুখানি সাহায্য করতে পারেন আমরা উপকৃত হতে পারি– সেই কথাটাই আমি বলতে চেয়েছিলাম। এর বেশি কিছু নয়। এটা প্রচারিত হবার পর অনেকেই সাহায্য করার জন্য যোগাযোগ করেন। আপাতত সমস্যা মিটে যাবে আশা করি। আমাকে প্রতি মাসে চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে সেখানে নাম রেজিস্ট্রি করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়।

চিকিৎসক পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রেসক্রিপশন দেন, সেই ওষুধ ডিসপেনসারি থেকে দেওয়া হয়। সব ওষুধ না থাকলে দু-তিনদিন পর আবার একবার গিয়ে সেই ওষুধ নিয়ে আসতে হয়। অবশ্য গতকালই কেন্দ্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে একটি নির্দেশ এসেছে এই মর্মে যে, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তরা তাঁদের নিয়মিত ওষুধগুলি বাইরের দোকান থেকেই কিনে নিতে পারেন, সরকার তাঁদের বিল মিটিয়ে দেবে।”