নয়াদিল্লিঃ অসমে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন মহলে তা নিয়ে কথা শুরু হয়েছে। তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। উত্তর নেই অনেক প্রশ্নেরই। যারা বাদ পরেছেন তাঁদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশি ঝড়। সেই পরিস্থিতি বেশ কিছুটা ম্যানেজ করতেই রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রভিশ কুমার।

যেখানে তিনি বলেন এনআরসি একটি পুরোপুরি আইনী-প্রক্রিয়া ও যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পরেছে তাঁরা ‘রাষ্ট্রহীন’ বা ‘বিদেশি’ কোনটাই নয়। এনআরসি বিষয়ক মন্তব্যে তিনি বলেন, “বিদেশি সংবাদমাধ্যমের একাংশে এনআরসি সংক্রান্ত কিছু মন্তব্য ঘোরাফেরা করছে যা পুরোপুরি ভূল। ভারত সরকার ১৯৮৫ সালে অসম চুক্তি সই করেছিল যেখানে অসমের নাগরিকদের আগ্রহ ও ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার শপথ নেওয়া হয়েছিল। অসম অ্যকর্ড ১৯৮৫ সালে ভারত সরকার, অসম সরকার, অল ইণ্ডিয়া অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ও অল অসম জন সংগ্রাম পরিষদ মধ্যে সাক্ষরিত হয়েছিল।

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সালে এই চুক্তিকে কার্যকরী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যার পরবর্তী ধাপে ২০১৫ সালে এই প্রক্রিয়াটির ফের আধুনিকীর করণ হয়।” তিনি বারবারই বলেন, এনআরসি একটি স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া। যেখানে সরকার শুধুই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ পালন করছে। “অসমের এনআরসি তালিকাভুক্ত যারা নয় তাঁদের আটক করা হবে না ও তাঁরা দেশের নাগরিকদের কোন অধিকার থেকে তাঁরা বঞ্চিত হবে না। প্রয়োজনে সবরকম আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। তবে যাদের তালিকায় নাম নেই তাঁরা রাষ্ট্রহীন নয়”, ভবিষ্যৎ সংকট কাটাতে আশ্বস্ত করেছেন রভিশ কুমার।

শনিবার এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ায় জানা গিয়েছে ১৯.০৬ লক্ষ মানুষ তালিকার বাইরে রয়েছে৷ ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত৷ প্রাথমিকভাবে ১০.০৬ লক্ষ তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল। তালিকায় রয়েছে ৩ কোটি মানুষের নাম। যারা বৈধ নাগরিক বলে চিহ্নিত হয়েছেন।

যদিও আগেই জানান হয়েছিল যাদের নাম বাদ পড়বে তারা ফরেন ট্রাইবুন্যালে অ্যাপিল করতে পারবেন। কিন্তু আইনগত জটিলতা কাটিয়ে কতদূর কী করা সম্ভব সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।