স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জেলার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বাড়িতে হঠাৎ বিজেপির দুই বিধায়ককে ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে মালদহে। তাহলে কি এবার কৃষ্ণেন্দুবাবু বিজেপিতে পা বাড়াতে চলেছেন! এই প্রশ্নই এখন বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। এমনকি রাজনৈতিক চর্চাও শুরু হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীকে ঘিরে।

বিগত দিনে কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীকে নিয়ে বারবার নানান খবর সংবাদের শিরোনামে এসেছে। তাহলে এবার সত্যি কি বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ওই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার।

যদিও এপ্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী সাফ কথা, “এসব বিরোধীদের চক্রান্ত। যিনি দেখা করতে এসেছিলেন তিনি আমার বহু পুরনো দিনের বন্ধু। সৌজন্যমূলক দেখা যে কেউ করতেই পারেন। তা নিয়ে অযথা এত সমালোচনা কেন? আমি তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের একজন সৈনিক। কাজেই এনিয়ে অযথা সমালোচনা না করাই ভালো।”

সূত্রের খবর , শুক্রবার সকালে বনগাঁর বিধায়ক দুলাল বর যিনি সদ্য বিজেপিতে যোগদান করেছেন, তিনি এবং তাঁর সঙ্গে মালদহের হবিবপুরের বিধায়ক জোয়েল মুর্মু রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মালদহের ডাকসাইডের তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান।

মালদহ শহরের নেতাজি সুভাষ রোগ সংলগ্ন গোলাপটটি এলাকায় রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি। সেখানেই গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা করেন বিজেপির ওই দুই বিধায়ক। তবে একান্তই কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। আর এই বিষয়টি জানাজানি হতেই শুক্রবার থেকেই জেলাজুড়ে কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন এবার হয়ত বিজেপিতে পা বাড়াতে চলেছেন কৃষ্ণেন্দুবাবু।

যদিও প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মালদহের তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, ” দুলাল বর আমার বহু পুরনো বন্ধু। উনি দীর্ঘদিন পর আমার সাথে দেখা করতে বাড়িতে এসেছেন। আমার দাদার সঙ্গেও দেখা করেছেন প্রণাম জানিয়েছেন। এর বেশি আর কোনও কথা হয়নি। বন্ধুর সঙ্গে কথা আমি বলতেই পারি।

এনিয়ে সমালোচনার কোনও প্রশ্নই আসে না। যারা আলোচনা করছে তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখি, আমি তৃণমূল দলের সৈনিক। প্রথম থেকেই দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম এবং আছি। অযথা বিরোধীদের কেউ এরকম সমালোচনা করেই মানুষকে এবং দলীয় নেতৃত্বকে বিভ্রান্তি করার চেষ্টা করছে।

আমার তৃণমূল ছাড়া কোনও প্রশ্নই নেই।” যদিও এপ্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলার কার্যকরী সভাপতি বাবলা সরকার বলেন, “কৃষ্ণেন্দুবাবুর সঙ্গে কারও পরিচিতি থাকতেই পারে। তা বলে অযথা বিরোধীদের রাজনৈতিক সমালোচনা করার কোনও প্রশ্নই আসে না । কেন এরকম হঠাৎ করে চর্চা শুরু করা হয়েছে তা বলতে পারব না।”

বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল জানিয়েছেন, দলের দুই বিধায়ক প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বাড়িতে গিয়েছিলেন । তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন । কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। কৃষ্ণেন্দুবাবুর সঙ্গে উনারা দেখা করতে গিয়েছিলেন । সৌজন্যমূলক দেখা যে কেউ করতেই পারেন। তবে কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর বিজেপিতে যোগদান করার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য কোনও রকম মন্তব্য করেনি দলের জেলা সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ