ঢাকা: আরও সংকটজনক ৯১ বছর বয়সী বাংলাদেশের প্রথম সেনা-স্বৈরশাসক হুসেইন মহম্মদ এরশাদ৷ ঢাকার সেনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে৷ তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে৷ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসরা৷ ক্রমে তাঁর কিডনি ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিস্তেজ হয়ে আসছে বলেই জানানো হয়েছে৷ পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দল জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা ও অগুন্তি সমর্থকরা৷

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রধান বিরোধী দল৷ জাতীয় সংসদের অন্যতম বিরোধী নেত্রী তথা এরশাদ পত্নী রওশন৷ স্বামীর অবস্থা সংকটজনক হওয়ার সংবাদে তিনি পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছেন৷ দেখা করছেন জাতীয় পার্টির কার্যকরী সুপ্রিমো জিএম কাদের৷ তিনি এরশাদের ভাই৷ গত ২৬ জুন থেকে চরম শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট৷

হুসেইন মহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিক৷ নবতিপর হয়েও সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি লড়াই করেন৷ নির্বাচিত হন৷ তারপরে ক্রমাগত অসুস্থই ছিলেন তিনি৷ এক পর্যায়ে অসুস্থতা বাড়লে তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু ক্রমে তাঁর অসুস্থতা বাড়ছে৷ চিন্তিত জাতীয় পার্টি৷ দলের তরফে শুক্রবার দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে৷

এক নজরে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ

১.জন্ম অবিভক্ত ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায়৷ পরে ভারত ভাগের পর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেয় তাঁর পরিবার৷ পূর্ব পাকিস্তানের বাসিন্দা হন তিনি৷

২. ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ তৈরির মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর অফিসার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পাকিস্তানে ছিলেন৷ পরে দেশে ফেরেন৷ ১৯৭৫ সালে খুন করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে৷ তারপরে ক্ষমতায় আসেন অপর সেনাকর্তা জিয়াউর রহমান৷ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এরশাদের ক্ষমতা বাড়ে৷ পরে সেনাপ্রধান হিসেবে এরশাদকে নিযুক্ত করা হয়৷

৩. ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে খুন করেন সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা৷ অভিযোগ এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন এরশাদ৷ তবে এরকম অভিযোগের কোনপ্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ এদিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এরশাদ বিচারপতি সাত্তারকে অনেকটা বাধ্য করেন ক্ষমতা ছাড়তে৷

৪. ১৯৮২ সালে এরশাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন বিরাচপতি৷ সামরিক আইন জারি করে রাষ্ট্রপতি ও সামরিক আইন প্রশাসক হন এরশাদ৷ তারপর জাতীয় পার্টি গঠন করেন এরশাদ৷

৫.১৯৮৬ সালের এক তরফা জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়৷ বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ৷ ১৯৮৮ সালে ওই সংসদ ভেঙে দিয়ে আবারও নির্বাচন করান এরশাদ৷ কোন দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি৷ শুরু হয় এরশাদের এক নায়ক শাসন৷ এবার গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে মিলিত আন্দোলনে নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া৷ রক্তাক্ত আন্দোলনের পর টানা ৯ বছরের শাসন ছাড়তে হয় এরশাদকে৷ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দেন এরশাদ৷

৬.১৯৯১ সালের নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতা দখল কর৷ এরপর এরশাদকে গ্রেফতার করা হয়৷ দীর্ঘ সময় জেল খেটে বের হন৷ ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের হয়ে লড়ছে জাতীয় পার্টি৷ সরকারে থাকা ও বিরোধী অবস্থান ধরে রাখার মধ্যবর্তী অবস্থান নিয়ে চলেছেন এরশাদ৷