স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দুজনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত৷ একজন প্রশংসায়, অপরজন নিন্দায়৷

সুন্দরবনকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে ‘বুলবুল’৷ ১২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে দেখা গেল না রায়দিঘির বিধায়ক দেবশ্রী রায়কে৷ কিন্তু যাঁকে সুন্দরবন দু-দুবার হারিয়ে দিয়েছে সেই কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় ঝড়-জলের রাতে ছুটে বেড়ালেন এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত৷ শুধু তাই নয়, গ্রামের অসহায় মানুষদের আশ্রয়, খাবারের ব্যবস্থা করলেন নিজেই৷ সেই কারণে দেবশ্রী এবং কান্তি এই দুই ব্যক্তিই আলোচিত হলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়৷

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক দেবশ্রীর সমালোচনায় যতটা সরব হয়েছেন নেটিজেনরা ততটাই পদ-হীন কান্তির প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত হলেন তারা৷ ‘বুলবুল’-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গেল একটাই কথা- ‘দেবতা আছে দেবশ্রী নেই, কান্তি আছে ক্লান্তি নেই’

শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত রায়দিঘির বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়ালেন প্রাক্তনমন্ত্রী তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও ভ্যানে চেপে—পৌঁছে গেলেন দুর্যোগ কবলিত গ্রামে গ্রামে।রবিবার সকালেও দেখা গেল গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন তিনি। ছোট-বড় সকলেই তাঁদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন ‘কান্তিদা’কে। রায়দিঘিতে তাঁর স্ত্রীর একটা স্কুল আছে৷ সেই স্কুলেই ২০০ জনের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন কান্তিবাবু৷

২০০৯ সালে আয়লার সময়েও গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার, ত্রাণের কাজ করেছিলেন কান্তি। কিন্তু তখন রাজ্যে বামেদের সরকার। কান্তিবাবু মন্ত্রী। এখন সেসব নেই।

বাম আমলে সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে জলে-জঙ্গলের মানুষের ‘ঘরের লোক’ হয়ে ওঠা বর্ষীয়ান ‘কমরেড’ প্রথম ধাক্কা খেয়েছিলেন ২০১১ তে৷ পরিবর্তনের ঝড়ে তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি৷ সে সময় ভোটের ফলাফল দেখে যারা অবাক হয়েছিলেন, তাদের চোখে ভেসে উঠেছিল, আয়লায় বিধ্বস্ত সুন্দরবনে ধুতির কোঁচা হাঁটুর উপর তুলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে রাজ্যের এক মন্ত্রীর অদম্য সংগ্রামের দৃশ্য৷ ভোটের ফলাফল বলেছিল, সুন্দরবনের ‘ঘরের লোক’ এর কথা ‘কেউ মনে রাখেনি…৷’

বুলবুল-এর সময়ও সুন্দরবনবাসীকে রক্ষা করতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে যেভাবে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ালেন এই প্রবীন কমরেড তা দেখে কট্টর বাম সমালোচকদের মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ কেউ কেউ আবেগতাড়িত হয়ে বলছেন, যিনি ভোট পেয়ে জিতেছেন তাঁর যখন কোনও দায় নেই তখন আপনার কিসের এত দায়?

এব্যাপারে কান্তিবাবুর বক্তব্য, “রাজনীতি মানেই কি ভোটে জেতা? আমি এব্যাপারে বিশ্বাসী নই৷ রাজনীতি মানে দেশপ্রম৷ ক্ষমতায় থাকলাম কি থাকলাম না সেটা বিষয় নয়৷ ক্ষমতা থাকলে অনেক কাজ করা যায়৷ লোকের পাশে একটু থাকা, ভরসা জোগাতে কি অনেক টাকার দরকার হয়?” দেবশ্রী রায়ের ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে কান্তিবাবু বলেন, “দয়া করে ওনার কথা আমায় কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না৷ এই পরিস্থিতিতে কারোর সমালোচনা করার মতো জায়গায় আমি নেই৷ উনি ওনার কাজ করছেন, আমি আমার কাজ করছি৷”

তিনি যে ভোট-পাখি নন, ফণী, বুলবুল-এর সময় তার প্রমাণ কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় দিয়েছেন৷ ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত কি সেকথা মনে রাখবে সুন্দরবনবাসী? নেটিজেনদের মনেই সেই প্রশ্ন জেগেছে৷