স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ফের খুন উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরে৷ এবার খুন করা হল প্রাক্তন এক সিপিএম কাউন্সিলরকে৷

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার খড়দা থানা এলাকায়৷ সেখানকার লক্ষ্মীঘাটে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় প্রাক্তন ওই কাউন্সিলরকে৷

আরও পড়ুন: যাঁরা বাধা দিচ্ছে, তাঁদের চিহ্নিত করুন: মুখ্যমন্ত্রী

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম দীনানাথ যাদব৷ বয়স ৭২৷ তিনি টিটাগড় পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন৷ এদিন দুপুরে তাঁকেই গুলি করা হয়৷ গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে৷ হইচই পড়ে যায় সর্বত্র৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির৷ পরে সেখানে খড়দা থানার পুলিশ যায়৷ পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷

আরও পড়ুন: রামপুরহাটে পুলিশের সামনেই গনপিটুনিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে যে, পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে৷ একজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ৷ তবে তার নাম এখনও জানা যায়নি৷ পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে বিবাদ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: উন্নয়নে গতি আনতে ফের জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী

এই ঘটনায় পুলিশ যাকে গ্রেফতার করেছে, তার নাম গোপাল যাদব৷ সে দীনানাথ যাদবের ভাইপো৷ তাকে ঘোলা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার রাজেশকুমার সিং৷ পুলিশের দাবি, লক্ষ্মীঘাট এলাকায় দীনানাথ-গোপালদের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে৷ রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হওয়ায় দীনানাথই সম্পত্তি দখল করে রেখেছিল বলে অভিযোগ৷ এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিকি বিবাদ চলছিল৷ তার জেরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় সিপিএমের দক্ষ সংগঠক হিসেবে একটা সময় পরিচিতি ছিল দীনানাথের৷ এখনও এলাকায় তাঁর যথেষ্ট দাপট ছিল৷ তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন টিটাগড়ের পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘ওদের সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ দীর্ঘদিনের । আমিও ওদের নিয়ে আলোচনায় বসে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম৷ কিন্তু মেটেনি। আইন আইনের পথে চলবে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনীতির যোগ নেই।’’

আরও পড়ুন: জমি দখলকে কেন্দ্র করে বোমাবাজিতে উত্তপ্ত গ্রাম

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপাল যাদব এলাকায় দুষ্কৃতি হিসেবেই পরিচিত৷ তার বিরুদ্ধে অসামাজিক কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে৷ কিন্তু তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷