নয়াদিল্লি: দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তিতে নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক আসিফ খানের। দিল্লি পুলিশের কাছে আসিফ খান বুধবারই আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা আসিফ খান জানিয়েছেন বুধবার দুপুরে জামিয়া থানায় তিনি আত্মসমর্পণ করবেন।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রবিবার উত্তাল হয় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে সরব হন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই প্ল্যাকার্ড হাতে চলে তুমুল বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ক্যাম্পাসে ঢোকে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ যেতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের অভিযোগ, পড়ুয়াদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পালটা, পুলিশের বিরুদ্ধেও হামলার অভিযোগে সরব হন পড়ুয়ারা। পুলিশ বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডগোলে এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। এফআইআরে সাতজনের নাম। এফআইআরে নাম রয়েছে চার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক আসিফ খানের।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। আন্দোলন আরও তীব্র করে তুলতে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক নেতারা উসকানি দেন বলেও অভিযোগ দিল্লি পুলিশের। কংগ্রেসের ওই প্রাক্তন বিধায়ক ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাই পড়ুয়াদের বিক্ষোভে উসকানি দেন বলে দাবি পুলিশের।

এদিকে, জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডগোলের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। ধৃতদের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। পুলিশের অভিযোগ ধৃতদের কেউই জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নন।

অন্যদিকে, জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অভিযোগ, আন্দোলন বন্ধের নামে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জোর করে ঢোকে দিল্লি পুলিশ। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ প্রোক্টর ওয়াসিম আহমেদ খানের অভিযোগ, বিনা অনুমতিতে জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রদের উপরে অকথ্য অত্যাচার করে পুলিশ। শুধু তাই নয় জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র এবং কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজধানীর রাজনীতি। পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে শুরু তুমুল রাজনৈতিক তরজা। ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।