নিবেদিতা দে ও প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ইনিও টানছেন, উনিও টানছেন৷ মাঝখানে তিনি মুচকি হাসছেন৷ কারণটা অবশ্যই পরিবর্তনের হাওয়ায় ফের ক্ষমতায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা৷ সবমিলে সদ্য বিজেপি ত্যাগী তথা উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সাত বারের মুখ্যমন্ত্রী গেগাং আপাংকে ঘিরে রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গেল৷

গুয়াহাটি ও ইটানগরের একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, দ্রুত তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন গেগাং আপাং৷ আর কলকাতায় তৃণমূল মহলে আলোচনা-গেগাংকে টেনে নিতে মরিয়া হয়েছে কংগ্রেসও৷ ফলে সবার নজর এখন আগামী ১৯ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বিগ্রেড সমাবেশ৷ এখানেই একাধিক অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও হেভিওয়েট বিজেপি বিরোধী নেতৃত্বের সমাহার হতে চলেছে৷

আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সেই সমাবেশের আগে বিজেপি ছেড়ে দিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গেগাং আপাং৷ তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনীতির দড়ি টানাটানির খেলা৷ ইটানগরের খবর, গেগাংকে হাতছাড়া করে মুষড়ে পড়েছে বিজেপি৷ ঘনিষ্ঠ মহলে তীব্র মোদী-অমিত শাহ বিরোধী ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তিনি৷ দল থেকে পদত্যাগ করার পত্রেও সেই ক্ষোভ জাহির করেছেন৷

বারবার দল বদলে অভ্যস্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম হেভিওয়েটে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সর্বশেষ মঙ্গলবার বিজেপি ছেড়ে দিলেন৷ এবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন বলেই সূত্রের খবর৷ জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সমাবেশে অনুগামীদের নিয়ে তিনি সরাসরি ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন৷ আর এখানেই সমীকরণ হচ্ছে জটিল৷

কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের আরও খবর, এক সময়ের নিজেদের হেভিওয়েট নেতা তথা সাতবারের মুখ্যমন্ত্রী গেগাংকে নিজেদের দিকে টেনে আনতে তৎপর কংগ্রেস ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ৷

এমনিতেই কর্ণাটকে জোট সরকার নড়বড়ে হতে শুরু করেছে৷ দক্ষিণের এই রাজ্যে সরকার পক্ষের একাধিক বিধায়কে ভাঙিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে৷ সেই পরিস্থিতি মাথায় রেখেই অরুণাচল প্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা গেগাং আপাংকে ফের নিজেদের দিকে টেনে আনতে মরিয়া কংগ্রেসও৷ আর উত্তর পূর্বাঞ্চলে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে নিতে গেগাংয়ের মতো নেতাকে ধরে রাখতে তৈরি মমতাও৷

কী হবে গেগাং সমীকরণ?
অরুণাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন চলতি বছরের শেষে৷ সম্ভবত লোকসভা নির্বাচনের সময়েই এখানে ভোট হতে চলেছে৷ এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে হলে কংগ্রেসকে সরাসরি বিজেপির সঙ্গে টক্কর নিতে হবে৷ কিছু আঞ্চলিক দল থাকবে৷ এই লড়াইয়ে যদি গেগাং আপাংকে নিজেদের পক্ষে টেনে নিতে পারেন মমতা, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অরুণাচল প্রদেশই হতে পারে প্রথম তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য৷ ফলে তৃণমূল শিবির তৈরি৷

আর পুরনো কংগ্রেসি গেগাং-কে ফিরে পেতে মরিয়া কংগ্রেস৷ ১৯৮০ সালে কংগ্রেসের হয়েই তিনি রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলেন৷ তারপর দল পরিবর্তন করেন বিভিন্ন সময়ে ৷ সর্বশেষ ২০১৬ সালে তিনি গিয়েছিলেন বিজেপিতে৷ মঙ্গলবার দল থেকে সরে যাওয়ার কথা টুইটে জানান তিনি৷ সেই সঙ্গে পদত্যাগ পত্রে লেখেন, বাজপেয়ীর আমলে রাজধর্ম পালন করা থেকে দল বিচ্যুত হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কটাক্ষ করেন গেগাং আপাং৷

টুইট করার পরেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন ছড়ায়৷ উত্তর পূর্বাঞ্চলের কিছু সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয়, অরুণাচল প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গেগাং আপাং দ্রুত তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন৷ কলকাতায় তিনি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে আসায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে৷ গভীর রাতের খবর, তৃণমূলের নেতৃত্ব এখনও নিশ্চিত নন৷ বার বার দল ছাড়ার কারণে গেগাংয়ের উপরে ভরসা করা যায়না বলেই মনে করছেন অনেকে৷ আর সেখানেই বাজিমাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কংগ্রেস৷

উত্তর পূর্বাঞ্চলের চিন সীমান্ত দিয়ে ঘেরা অরুণাচল প্রদেশে রয়েছে ৬০টি আসন৷ এখন ক্ষমতায় বিজেপি৷ মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু৷