হায়দরাবাদ: ভাগ্যের কি পরিহাস! একসময়ের দাপুটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান আজ অটোরিক্সাচালক। মাথার উপর নিজের তৈরি ছাদটুকুও নেই। ভাড়াবাড়িতেই সংসার নিয়ে দিন গুজরান। ১৯৭১ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে তিনিও সামিল ছিলেন। সেই যুদ্ধে তাঁর বীরত্বের কৃতিত্ব-স্বরূপ তাঁকে বিশেষ পুরস্কার দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত সেই জওয়ানেরই এখন করুণ দশা। সরকারি সাহায্যের আশায় ৭১ বছরের এই প্রাক্তন সেনাকর্মী।

শেখ আবদুল করিম। বয়স ৭১। ১৯৭১ সালে ভারত-চিন যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। ৭১-এর যুদ্ধে শেখ আবদুল করিমের কীর্তি কখনই ভোলার নয়। তাঁর কৃতিত্বকে কুর্নিশ জানিয়েই তাঁকে সম্মান জানিয়েছে ইন্ডিয়ান আর্মি। শেখ করিমকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ পুরস্কার। ব্যস ওটুকুই। তারপর থেকে আর খোঁজ নেয়নি কেউ। বর্তমানে অটো চালিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে বৃদ্ধ করিম সাহেবকে।

সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন ওই সেনাকর্মী বলেন, ‘‘আমার বাবা ব্রিটিশদের সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন৷ তাঁর মৃত্যুর পরে আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিই। ১৯৬৪ সালে আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি ১৯৭১ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম৷ লাহুল এলাকায় আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ একাত্তরের ভারত-চিন যুদ্ধে শরিক হওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে আমাকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।’’

প্রাক্তন সেনাকর্মী শেখ করিম আরও জানিয়েছেন, ইন্দিরা গান্ধীর আমলে সেনাবাহিনীতে উদ্বৃত্ত কর্মী থাকার কথা বলা হয়৷ সেই সময় অনেককেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ বাকিদের সঙ্গে সেই সময় সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় শেখ আবদুল করিমকেও৷ এপ্রসঙ্গে বৃদ্ধ প্রাক্তন এই সেনাকর্মী বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন আমি সরকারি জমির জন্য আবেদন করেছিলাম৷ আমাকে বর্তমানে তেলঙ্গানার গোল্লাপল্লি গ্রামে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছিল।’’

এখান থেকেই শুরু তাঁর করুণ কাহিনী৷ প্রাক্তন এই সেনাকর্মীর অভিযোগ, তাঁকে যে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছিল, ২০ বছর পর সেই জমিটিতেই এলাকার আরও সাতজনের ভাগ দেওয়া হয়। এরপরেই শেখ আবদুল করিম সংশ্লিষ্ট মহলে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে তাঁর আগে পাওয়া জমিটির বদলে অন্য জায়গায় পাঁচ একর জমি নেওয়ার কথা বলা হয়।

সেই প্রস্তাবের পর এক বছর পার হতে চললেও এখনও নতুন ওই জমির কাগজপত্র তিনি পাননি। প্রশাসনের দুয়ারে-দুয়ারে ঘুরলেও এখনও সুরাহা মেলেনি। এখনও নিজের বাড়ি পর্যন্ত তৈরি করতে পারেননি প্রাক্তন এই সেনাকর্মী। বাড়াবাড়িতেই সাংসার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সংসারের খরচ চালাতে অটো চালাচ্ছেন। সরকারের কাছে সুরাহা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সেনাবাহিনী তাঁকে বিশেষ পুরস্কার দিলেও বৃদ্ধ বয়সে তাঁর পেনশনের ব্যবস্থাটুকু করা যায়নি। সরকারিস্তর থেকে পেনশন পান না তিনি। তাই এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন অসহায় এই বৃদ্ধ। সরকারি স্তর থেকে তাঁর জমির জন্য পাকাপাকি বন্দোবস্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে যাতে সরকারের তরফে তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য দেওয়া হয় সেব্যাপারেও আবেদন জানিয়েছেন বৃদ্ধ এই প্রাক্তন সেনাকর্মী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।