ওয়াশিংটন: ‘এই ব্রহ্মাণ্ডে আমরা একা নই। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি।’ এমনটাই জানালেন পেন্টাগনের গোপন ইউএফও প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকা এক প্রাক্তন অফিসার লুই এলিজোন্ডো। সম্প্রতি, পেন্টাগনের গোপন প্রজেক্টের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। পাঁচ বছর ধরে সরকারি ভাবে ওই অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা।

ওই প্রজেক্টের গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন এলিজোন্ডো। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের হয়ে তিনি কথা বলতে পারেন না, তবে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করে যে প্রমাণ হাতে এসেছে তাতে এলিয়েন এয়ারক্রাফটের পৃথিবীতে আগমনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, এমন এয়ারক্রাফটের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যা আমেরিকার কাছে নেই, এমনকি অন্য কোনও দেশের কাছেও থাকার কথা নয়। ওই প্রজেক্টে গবেষকদের কাজ ছিল, যে সন্দেহজনক এয়ারক্রাফট দেখা গিয়েছে তা আসলে কি, সেটা খুঁজে বের করা। ওই ধরনের যান পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকারক কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছিল।

পেন্টাগনের প্রাক্তন ওই অফিসার জানান, একাধিক অস্বাভাবিক এয়ারক্রাফটের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এগুলি ‘এরোডায়নামিক্স’-এর নিয়মকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ঢুকে পড়েছিল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। তাঁর দাবি, এগুলিতে কোনও ‘প্রপালসান’ ছিল না। আর এর পিছনে কোনও প্রাণীর চালিত শক্তি ছিল বলেও অনুমান তাঁর।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, পেন্টাগনের ওই প্রজেক্টে এমন দুটি ভিডিও দেখা গিয়েছে, যেখানে এক মার্কিন পাইলট কোনও সন্দেহনজক বস্তু দেখতে পেয়েছিলেন।

কোটি কোটি ডলার খরচ করে এই গবেষণা চালানো হয়েছে বলে দিন দুয়েক আগে স্বীকার করেছে পেন্টাগন। ২০০৭ সালে এটি শুরু হয় এবং ২০১২ সালে বন্ধ হয়। হাতে গোনা কয়েকজন বাদ দিলে কেউ জানতেন না এই কর্মসূচীর কথা। ওই অভিযান প্রকল্পের নথিতে অদ্ভুত দ্রুত গতিসম্পন্ন আকাশযান ও শূন্যে ভাসতে থাকা বস্তুর কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’। ‘দ্য অ্যাডভানস এরোস্পেস থিয়েটার আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ নামের ওই কর্মসূচি নিয়ে এক কোটি ৩০ লক্ষ পাতার গোপন নথি প্রকাশ করেছে সিআইএ।

কর্মসূচিটি অবসরে যাওয়া ডেমোক্রেট সিনেটর হ্যারি রিডের মস্তিষ্কপ্রসূত বলে জানা গিয়েছে। ওই কর্মসূচি শুরুর সময় রিড যুক্তরাষ্ট্র সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা ছিলেন। মহাকাশ গবেষণায় তাঁর বিশেষ উৎসাহ ছিল। বাজেটের ব্যবস্থাও হয়েছিল তাঁর দৌলতেই।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।