সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: বই পড়ে কেউ দেউলে হয়নি৷ তবুও আজকের বিশ্বায়নের যুগে কম্পিউটার, মোবাইলে ইন্টারনেট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করেন৷ বইপড়ুয়া মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমে গেলেও৷ অনেকেই আছেন যারা অবসর পেলেই বই পড়তে ভালবাসেন৷

বইমেলা থেকে বই কিনে বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন আস্ত একটা লাইব্রেরী৷ আজ তেমনি একজন বইপ্রেমী মানুষের গল্প শুনাবো৷ যে কিনা এবছর ৪৩ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা থেকে ২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার বই কিনেছেন৷

নাম দেবব্রত চ্যাটার্জী৷ বয়স ৩৯৷ পেশায় প্রাইভেট শিক্ষক৷ থাকেন শহর থেকে অনেক দূরে৷ নদিয়া জেলার চাকদহের কাঠালপুলির বাসিন্দা৷ বইয়ের প্রতি তার এতটাই ভালোবাসা যে বাড়ির একতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত সাজানো রয়েছে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী বই৷ কী নেই সেখানে সাহিত্য,অর্থনীতি, ধর্ম,রাজনীতি,দর্শন, বিজ্ঞান,উপন্যাসসহ নানা বই৷ শুধু বাংলা বা ইংরেজী নয় রয়েছে বিভিন্ন ভাষার বই৷

১৯৯৪ সালে ছাত্র অবস্থায় বাবার হাত ধরে ময়দানের কলকাতা বইমেলায় আসা৷ সেই থেকে বই কেনা শুরু৷ নিজে টাকা জমিয়ে ১৯৯৮ সালে বইমেলা থেকে কিনেছিলেন প্রায় ১০ হাজার টাকার বই৷ এরপর প্রতি বছরই টাকার অঙ্কটা বাড়তে থাকে৷ এবছর কলকাতা বইমেলা থেকে কিনেছেন ২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার বই৷

গত বছর কিনেছিলেন ০১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকার বই৷ শুধু বইয়ের জন্য এত টাকা কীভাবে জোগান, তার উত্তরে একগাল হেসে বললেন,সারা বছর কোনও আচার অনুষ্ঠানে টাকা খরচ করি না, বাবা মায়ের কাছ থেকে ভাল জামা পেন্টের পরিবর্তে টাকা নিয়ে জমিয়ে রাখি বই কেনার জন্য৷ এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে যে টাকা পাই তাও বইমেলা থেকে বই কেনার জন্য রাখা থাকে৷

এই বইগুলো কি শুধু সংগ্রহের জন্য? এমন প্রশ্ন করায় দেবোব্রত চ্যাটার্জী জানান, না, না এগুলো শুধু সংগ্রহের জন্য নয়৷ দিনে ৭-৮ ঘন্টা আমি বই পড়ি৷ নতুন বইয়ের গন্ধ নেওয়া,বই পড়াটাই আমার নেশা৷ কিছু কিছু বইয়ের প্রচ্ছদ আমাকে খুব আকর্ষন করে৷ আমি তখন সেই বইয়ের প্রেমে পরে যাই৷ এবং বইটা কিনে ফেলি৷ এখন অনেক ছাত্রছাত্রী আমার লাইব্রেরীতে বই পড়তে আসে, তা দেখেও আমার খুব ভাল লাগে৷ কারণ আধুনিক যুগে এখন অধিকাংশ মানুষ চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটায়। ছাত্রছাত্রীরা মাঠে খেলাধুলা ছেড়ে কম্পিউটার, মোবাইলে গেইম নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

বইয়ের প্রতি কিভাবে এত নেশা হল, জানতে চাইলে দেবোব্রতবাবু জানান, আমার দাদু সুরেন্দ্র মোহন চ্যাটার্জী ছিলেন একজন ডাক্তার৷ তিনি বাড়িতে প্রচুর বই নিয়ে আসতেন, সময় পেলেই সেই বইগুলো পড়তেন৷ আমার বাবা-মাও বই পড়তেন৷ আর আমি ছোটবেলায় তাদের ওই বড় বড় বইগুলো নাড়াচাড়া করতাম কিন্তু পড়তে পারতাম না৷ বইয়ের মাঝে থাকতে থাকতে একসময় বই পড়া শুরু হয়ে যায়৷ বাবা নিমাই চাঁদ চ্যাটার্জী বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে একবার আমাকে কলকাতা বই মেলায় নিয়ে যান এবং ছোটদের বই কিনে দেন৷ সেই শুরু৷