নয়াদিল্লি: ২০০০ দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত সফরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের পান্ডা তিনি। দীর্ঘ টালবাহানার পর কিছুদিন আগে তাঁকে দেশে ফেরাতে সক্ষম হয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তাঁর নামে মামলা জারি থাকলেও করোনায় লকডাউন পিরিয়ডের সুযোগ নিয়ে জামিন পেয়েছিল সে।

কিন্তু সম্প্রতি দিল্লি পুলিশকে দেওয়া গোপন জবানবন্দিতে ফের একবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বুকি সঞ্জীব চাওলা। ২০০০ সালে হ্যান্সি ক্রোনিয়ে কাণ্ডে ধৃত এই বুকি সাফ জানালেন, গড়াপেটা ছাড়া কোনও ক্রিকেট ম্যাচ হয় না। সব ক্রিকেট ম্যাচেই গড়াপেটা হয়ে থাকে। একইসঙ্গে বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে বুকিদের পিছনে কাজ করা প্রবল পরাক্রমশালী সিন্ডিকেটের হদিশ দিয়ে চাওলা জানিয়েছেন, ক্রিকেট ম্যাচ আসলে একটা সিনেমা যার কলকাঠিটা নাড়ছে অন্য কেউ।

এখানেই শেষ নয়। বিশ্বক্রিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা মাফিয়া গোষ্ঠীর টার্গেট দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চালানো ক্রাইম বাঞ্চের অফিসার। জানিয়েছেন সঞ্জীব। এর থেকে বেশি কিছু মুখ খুললে তাঁর প্রাণনাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি তাঁর জীবন এমনিতেই সংকটের মধ্যে বলে দাবি করেছেন সঞ্জীব। যদিও দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত চার্জশিটে চাওলার বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগীতার অভিযোগ এনেছে। ট্রায়াল কোর্টের জামিনের অর্ডারে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ জারি না করায় চলতি মাসেই তিহার জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন সঞ্জীব চাওলা। তারপরেই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দিল্লি পুলিশ।

সঞ্জীব চাওলা কর্তৃক ২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত সফরে কীভাবে গড়াপেটা করা হয়েছিল, দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত চার্জশিটে তার বর্ণনা রয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের কাছে প্রমাণস্বরূপ হ্যান্সি ক্রোনিয়ের সঙ্গে সঞ্জীবের কথোপকথনের অডিও ক্লিপিংসও রয়েছে।

১৯৯৩ সালে ভারত ছেড়ে পাকাপাকিভাবে লন্ডনে আস্তানা গড়েন বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন চাওলা। একইসঙ্গে ফিক্সিং কান্ডে তাঁর চার সহযোগী- কৃষণ কুমার, রাজেশ কালরা, সুনীল দারার নাম পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। ২০০০ যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়া চাওলাকে এদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দীর্ঘদিন প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চালানোর পর চলতি বছর সফল হয়েছে দিল্লি পুলিশ।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV