নয়াদিল্লি: রামের জন্মভূমি নিয়ে হিন্দুদের বিশ্বাসকে কোনও প্রশ্ন করা মুশকিল হচ্ছে, অযোধ্যা মামলা নিয়ে তেমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অযোধ্যায় রামের জন্মভূমি এবং জমি সমস্যা নিয়ে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে যে বিবাদ রয়েছে তা মেটানো খুব মুশকিল। কারণ হিসাবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যে অযোধ্যা মামলায় যে সমস্ত মুসলিম সাক্ষী রয়েছেন তাঁরা বিচার চলাকালীন জানিয়েছেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে যেমন মক্কা একটি পবিত্র ধর্মস্থান ঠিক একইভাবে হিন্দুদের কাছে এই অযোধ্যা সমান পবিত্র।

রামের জন্মভূমি এবং বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চের বরিষ্ঠ বিচারপতি রাজীব ধাওয়ান মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে সওয়ালে জবাব করা প্রশ্ন নিয়ে তিনি বলেন, ঈশ্বরের কোনও সঠিক রুপ বা নির্দিষ্ট আকৃতি আছে কিনা তা নিয়ে কি আইন আলোচনা করতে পারে? এমনকি বিচার চলাকালীন সময়ে মুসলিম সাক্ষীরাও জানিয়েছেন, ‘তাঁদের কাছে যেমন মক্কা পবিত্র, তেমনই হিন্দুদের কাছে রামের জন্মভূমি অযোধ্যা পবিত্র’। এদিকে মামলায় হিন্দুদের বিশ্বাসকে অস্বীকার করা কঠিন বলে জানিয়েছেন এস এ ববদে, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং অশোক ভূষণ, এস এ নাজিরের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ধাওয়ান সুননি ওয়াকফবোর্ড ও মূল আইনজীবী এম সিদ্দিকি সহ অন্যদের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, বিশ্বাস এবং জন্মস্থানের দাবির ক্ষেত্রে বিশ্বাসই একমাত্র কখনই আইনের ভিত্তি হতে পারেনা। এদিকে ২৯ তম এই রাজনৈতিক এবং সংবেদনশীল মামলার শুনানির দিনে তিনি অবশ্য ভারতের মত বৈচিত্রপূর্ণ দেশে সব ধর্মকেই সম্মান শ্রদ্বা জানানোর পক্ষেই সওয়াল করেছেন।

রাজীব ধাওয়ান আরও বলেন এই দেশে যদি রাম এবং আল্লাকে সমান ভাবে সম্মান না জানানো হয় তাহলে এই দুই জাতির মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। প্রবীণ আইনজীবী বলেছেন, রাম-আল্লা বিরাজমান। দাবির পক্ষে দায়ের করা মামলায় পবিত্র জন্মভূমির জন্য একটি জনসমর্থনকে দল হিসাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিচারপতি।

প্রসঙ্গত, অযোধ্যায় শতাব্দী প্রাচীন বাবরি মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয় ১৯৯২ সালে। কারন কিছু হিন্দুদের দাবী ছিল এই মসজিদের জায়গাটি আগে রামের জন্মস্থান হিসাবে পরিচিত ছিল। জানা গিয়েছিল, যে এই অঞ্চলে একটি প্রাচীন মন্দির ছিল, সেটি ভেঙে তাঁর উপর তৈরি করা হয়েছিল এই মসজিদটি। শুধু তাই নয় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসায় প্রায় ২০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল।

জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে চোদ্দটি আবেদন জমা পড়েছিল। এবং চারটি মামলা রুজু হয়েছে। এই মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছিল,অযোধ্যার ২.৭৭ একরের জমিটিকে তিনটি পক্ষকে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই তিনটি পক্ষ হল, রামলীলা বিরাজমান, নিরমোহি আখড়া এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।