ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: নিয়তি। একেই হয়তো বলে নিয়তি। দুর্গা, কালী থেকে শুরু করে শিব, গুরুনানক থেকে মহাবীর ভিন্ন ধর্মের ঈশ্বরের পোস্টারের ব্যাবসা ছিল ওদের। ভগবান ওদের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ক্রাউন পিকচার মেহর্স।

প্রায় ৫০ বছরের পুরনো পোস্টারের দোকান আকাশ কোঠারদের। বাপ ঠাকুরদার শুরু করা ব্যবসা এখন আকাশই চালায়। শনিবার ভোরবেলা খবর পেয়েছিলেন বাগরি মার্কেট আগুন গ্রাস করেছে। তাড়াতাড়ি ছুটে এসেছিলেন বাড়ি থেকে। দ্বিতীয় তলের কোনের দিকের দোকানটাই আকাশদের।

আকাশ বলেন, “এসে দেখি দমকল তখনও ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। তখনও পুরো বিল্ডিংটায় আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। আশা ছিল আমাদের কোনের দিকে দোকানে আগুন পৌঁছানোর আগে হয়তো নিভিয়ে ফেলা যাবে।”

মানুষ ভাবে একরকম হয় অন্যকিছু। যাকে বলে ভাগ্য। দমকল দশ ঘন্টা ধরে বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই পারেনি। ততক্ষণে বাগরি মার্কেটের প্রত্যেকটা কোন আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে। আকাশ বলেন,”আর আশা রাখিনি। বুঝে গিয়েছিলাম এটাই ভাগ্যে ছিল। ঈশ্বরের ছবির পোস্টারের ব্যবসা। এত কাছে রয়েছেন মা দুর্গা, গুরু নানক। কেউ কিছু করতে পারলেন না। ওনারা এটাই হয়তো আমার কপালে লিখে দিয়েছিলেন। সব শেষ হয়ে গেল।”

সামনে তখনও জ্বলছে ক্রাউন পিকচার মেহর্স। আনমনা যুবক তাকিয়ে রয়েছেন সেদিকে। তারপর নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে আকাশ বললেন, “এসব হচ্ছে লোভ। লোভের সামনে হয়তো ঈশ্বরের কৃপাও অকেজো হয়ে গিয়েছিল।” একইসঙ্গে তিনি বলেন,”বুঝলাম না সারাদিন ধরে দমকল কি কাজ করল!”

কিছুক্ষণ আবার চুপ। আবারও মুখ খুললেন বছর ত্রিশের যুবক। বললেন, “সব কর্তৃপক্ষের দোষ। আমাদের থেকে টাকা নিয়েছে কিন্তু কোনও কাজ করেনি। ভাগ্য সবই ভাগ্য।”