লন্ডনঃ  গোটা ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রবল গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপপ্রবাহ। যতদিন যাচ্ছে তত পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। ইতিমধ্যে ফ্রান্সে তাপমাত্রার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সেখানে তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফ্রান্সের একটি শহরের এই তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

তথ্য বলছে গত ২০০৩ সালে ফ্রান্সে তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যার ফলে সে সময় সে দেশে মৃত্যু হয়েছিল হাজার হাজার মানুষের। এবারও পরিস্থিতি সেদিকেই এগোচ্ছে বলে ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

বিবিসি জানাচ্ছে, এবারের তাপমাত্রা সে রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রত্যেকেই ঝুঁকির মধ্যে আছে। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের মানুষকে সাবধানে থাকতে বলে সতর্কতা জারি করেছেন সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, তীব্র গরমের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের চার রাজ্যে নজিরবিহীন ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে ফ্রান্সের আবহাওয়া দফতর। তবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে এখনও জারি রয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘অরেঞ্জ এলার্ট’।

ফ্রান্সসহ জার্মানি, পোল্যান্ড এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতেও তাপমাত্রা রেকর্ড গড়েছে। চলতি জুনে তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। আগামিদিনে পরিস্থিতি আরও বিপদজনক জায়গায় যাবে বলে ইতিমধ্যে আশঙ্কাপ্রকাশ করছেন আবহাওয়াবিদরা। অন্যদিকে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্পেনের কাতালুনিয়াতে গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। সেখানে দমকলকর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে।

স্পেনের আটটি প্রদেশে জারি হয়েছে রেড এলার্ট। তাছাড়া, বহু বছরের মধ্যে এবারই সে দেশের বহু জায়গায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে স্পেনে কয়েকটি স্থানে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। ইতালিতেও ১৬ টি শহরে তাপমাত্রা জরুরি অবস্থার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে । রোমসহ কয়েকটি শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ইউরোপের এই তাপপ্রবাহের জন্য দায়ী উত্তর আফ্রিকা থেকে বয়ে আসা গরম বাতাস।