আদ্দিস আবাবা: আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। জল ভরা মেঘের দেখা নেই। ইতি উতি পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। কোথাও পশু কোথাও মানুষ। ভয়ঙ্কর তৃষ্ণা নিয়ে ঈশ্বরের দিকে চেয়ে থাকার দিন এবার শেষ করলেন ইথিওপিয়াবাসী। জলের ছোঁয়া পেতে নিজেরাই বৃক্ষ রোপণের অনন্য নজির তৈরি করেছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, ইথিওপিয়াতে একদিনে ৩৫ কোটি গাছ রোপণ। একটি বিশ্ব রেকর্ড। ২০১৬ সালে একদিনে ৫ কোটি গাছ রোপণ করার রেকর্ড করেছিল ভারত। সবুজায়ণের নজির গড়েছে ভুটান। সম্প্রতি তুরস্ক সরকার সরকারি অফিসে ছুটি দিয়ে দেশজোড়া সবুজায়ণের প্রকল্পের কথা জানায়। এতে বিশ্বজুড়ে পড়েছিল আলোড়ন।
তবে চলতি শতকে ইথিওপিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিস্তীর্ণ এলাকা খরার কবলে পড়ে। শুকিয়ে যায় মাটি। দেশটিতে বনভূমি কমে যাওয়ার কারণে বৃষ্টি ও জলাভাব দেখা দেয় প্রায়।

রাষ্ট্রসংঘ জানাচ্ছে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইথিওপিয়ার বনভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। ২০০০ সালের শুরুর দিকে সেই বনের আয়তন কমে নেমে আসে প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি। এর পর থেকে বিরাট খরা পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ইথিওপিয়ানরা।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চিন্তিত ইথিওপিয়া সরকার ব্যাপক বনভূমি তৈরির কাজ হাতে নেয়। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নেতৃত্বে এক দিনে ৩৫ কোটি গাছ রোপণের নজির তৈরি হয়েছে। এতে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন বহু নাগরিক। দেশের প্রায় ১০০০টি স্থানে এবারে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলছে।

ইথিওপিয়া সরকারের দাবি, একদিনে ৩৫ কোটি গাছ রোপণের রেকর্ড তারাই গড়ল। এদিকে সরকার বিরোধীদের পাল্টা দাবি, কিছু দুর্নীতি আড়াল করতেই সরকারপক্ষ এই ধরণের জনপ্রিয় প্রকল্প ছড়াচ্ছে। খরা চলতেই থাকে এখানে। আগে তো সরকার এমন পদক্ষেপ নেয়নি।