শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : বাংলায় এখন করোনা মহামারি  (Epidemic) চলছে। তবে বাংলায় এটাই প্রথম মহামারি নয়। এর আগেও বাংলায় “Spanish Flu” এসেছিল ১০৩ বছর আগে ১৯১৮ সালে। তারও ১০০ বছর আগে “বর্ধমান ফিভার” বাংলাকে দেখিয়ে দিয়েছিল মৃত্যু কী ভয়ঙ্কর জিনিস । ১৮২৪ সালে যশোরে প্রথম শুরু হয়েছিল “বর্ধমান ফিভার।” আর আজ আমরা আর একটা মহামারির মুখোমুখি। যার পোশাকি নাম কভিড-১৯ (Covid-19) । যা এখন মুখে মুখে “করোনা”(Corona Virus) নামে প্রচলিত। তবে আজ করোনা দেশে ব্যাপক আকার ধারণ করার জন্য The Lancet যেমন বলছে দেশের ধর্ম ও রাজনৈতিক জমায়েতকে দায়ী। অতীতে বাংলায় ছড়িয়ে পড়েছিল ১৮৩৫ সালে জ্বর-মহামারি। এটা ১৮২৫ থেকে ১৮৩৫-এর মাঝামাঝি সময়ের কথা। তবে এই সময়ের পরেও বাংলায় ম্যালেরিয়া প্রবল থাবা বসিয়েছিল। কিন্তু আজকের ভারতের করোনা মহামারি, দেশের সরকারের ভূমিকা, বিধানসভা নির্বাচন ও কুম্ভ মেলাকে রাজনীতির হালকা জনপ্রিয়য়তা পাওয়ার জন্য প্রশ্রয় দেওয়ার মতো ঘটনা আমরা দেখলাম। দেখলাম গঙ্গা, যমুনায় মৃতদেহ ভাসতে। তবে দেশ স্বাধীন (Indipendent India) হওয়ার আগে ভারতের ঔপনিবেশিক সরকারের (Colonial) সেই সময়ে ভারতের মানুষদের ম্যালেরিয়া থেকে রক্ষা করার জন্য ধর্মীয় মিছিল, মেলাকে প্রশ্রয় দিয়ে নিশ্চিন্তে ছিল না।

তখন গ্রামবাংলায় রেললাইন পাতার জন্য মাটি দিয়ে উঁচু বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। তার ফলে নিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল গ্রামবাংলায়। নিকাশি ব্যবস্থা বাধা পেয়ে , জল জমে তাতে প্রচুর ম্যালেরিয়ার মশা জন্মেছিল। ১৮৮৩-র “সাধারণী “-তে লেখা হয়েছিল, “ভারতের অন্যান্য প্রদেশের চেয়ে বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ হল এখানে রেলপথ নির্মাণের কাজ।”

তবে সেই সময় কলেরা ছিল মানুষের মৃত্যুর জন্য প্রধান দায়ী রোগ। ঢাকায় ১৮২৫-এর অগাস্ট মাসে ৮০০, সেপ্টেম্বরে ৭০০ মানুষের প্রাণ চলে গেছিল কলেরাতে। ১৮৩৭ সালে বর্ধমানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন কলেরাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ইংরেজরা এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে দায়ী করেছিল তীর্থযাত্রীদের দল বেঁধে যাওয়াকে। আজ যেমন দেশে করোনা বৃদ্ধির জন্য The Lancet ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দায়ী করছে দেশের সরকারের অপরিণামদর্শিতাকে। কেননা সরকারের উদ্যোগে দেশে করোনার মধ্যে হয়েছে নির্বাচন ও কুম্ভ মেলা।

পুরীতে কাজের জন্য গিয়ে নিজের ভাইকে হারিয়েছিলেন নবীনচন্দ্র সেন। নবীনচন্দ্র সেনের ভাই ম্যালারিয়াতে মারা যান বলে জানা যায়। এর পর নবীনচন্দ্র সেন নদিয়াতে চাকরি করতে এসে কলেরার স্মৃতি নিয়ে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি শান্তিপুরের রাসের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি তাঁর লেখায় “রাসযাত্রা”-কে “যমালয়ে যাত্রা”-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

তবে আমাদের স্বাধীন দেশের সরকার নির্বাচনের জন্য করোনার মধ্যে প্রচার করল, কুম্ভ মেলায় পুন্য স্নান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হল। তবে ১৮৩৭ সালে দেশের ঔপনিবেশিক সরকার কিন্তু আজকের সরকারের মতো নিশ্চিন্তে ছিল না। এটা বলছেন আজকের রাজনৈতিক, চিকিৎসক ও সমাজবিজ্ঞানীরা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.