সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে বলেছিলেন ‘১৩ বছর বয়স থেকেই আমি ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি।’ তবু তিনি কি কোনওদিন ডাবলিনের রাস্তা ঘাট ভুলতে পারবেন? হয়তো না। চেষ্টা করলেও হয়তো ভুলতে পারবেন না একসময়ের সতীর্থ নীল ও’ব্রায়ান, কেভিন ও’ব্রায়ানদের। তিনি ইয়ন মর্গ্যান, ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক যিনি দুই ভিন্ন দেশের হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং দুই দেশেরই অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছেন। বাইরে থেকে তিনি আজ নীল সাগরে ভাসছেন। ভিতরে কোথাও হয়তো আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে সবুজ আয়ারল্যান্ডের দিনগুলি।

ইয়ন মর্গ্যানই প্রথম ক্রিকেটার যিনি দুই দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেললেন। মর্গ্যানের জন্ম ডাবলিনে। লিসন স্ট্রিটের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্কুলে পড়াশোনা। ছেলেবেলায় আইরিশদের জনপ্রিয় খেলা হার্লিং বিশেষ পছন্দ করতেন তিনি। হার্লিংই একদিন ক্রিকেটের রিভার্স সুইপে বদলে যায়। যেমন ভাবে তিনি আইরিশ থেকে ইংরেজ হয়ে গিয়েছিলেন। এসোসিয়েট দেশ আয়ারল্যান্ডের যুব দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলেন মর্গ্যান। আয়ার‌ল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন। ২০০৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল মর্গ্যানেরই।

২০০৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আইরিশ দলকে নেতৃত্ব দেন। বেশ চলছিল, কিন্তু নিজের কেরিয়ারকে পরবর্তী পর্যায়ে ভাবতে চাইছিলেন সদ্য বিশ্বকাপজয়ী ইংরেজ অধিনায়ক। সুযোগ আসছিল না। এদিকে আয়ারল্যান্ডের হয়ে একের পর এক মাইলস্টোন পেরিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। স্টুয়ার্ট ব্রডের অনুপস্থিতিতে ২০১২-১৩ মরসুমে ভারতীয় দলের বিপক্ষে অধিনায়করূপে নির্বাচিত হন মর্গ্যান।

ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসাবে দুই দেশের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডের হয়ে ফ্রেডরিক ফেনের সেঞ্চুরি করার শতাধিক বছর পর জুলাই, ২০১০ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ইয়ন মর্গ্যান তাঁর রেকর্ডের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করেন।

ইংল্যান্ডকে প্রথম বার আইসিসি বিশ্বকাপ এনে দিয়ে ইংরেজ অধিনায়ক আরও এক ইতিহাস গড়লেন লর্ডসের মাঠে। ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশিরভাগ দেশেই কোনও না কোনও সময় এমন সব ক্রিকেটার ছিলেন যাঁরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে এসে কেরিয়ার তৈরি করেছেন। এই বিশ্বকাপেই সেই তালিকায় ছিলেন জোফ্রা আর্চার, ইমরান তাহির, হাসিম আমলা, আদিল রশিদের মতো ক্রিকেটাররা৷

অতীতেও এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা প্রচুর রয়েছে। কেপলার ওয়েসেলস দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন৷ রবিন সিং ভারত ও হংকংয়ের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। এড জয়েস ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার পর আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলতে চলে যান। রেনকিন আবার মর্গ্যানের আইরিশ দলের সতীর্থ। এমন ক্রিকেটার রয়েছেন যিনি আইসিসি’র পূর্ন সদস্য দুই দেশের হয়ে খেলেছেন। নিউজিল্যান্ডের লিউক রংকি সেই তালিকায় পড়েন। কারন ২০১৩ সালের আগে তিনি খেলতেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। তারপর নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন ২০১৫তে। মর্গ্যান এই তালিকার স্পেশ্যাল একজন, যাঁর খিড়কিতে আইরিশ আবেগ, সিংহদুয়ারে থ্রি লায়ন্স৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ