লন্ডন: ফলাফল যাইহোক, রোববার ক্রিকেট মক্কা দেখবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। স্বভাবতই নয়া ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে অভিজাত লর্ডস। ১৯৭৫ ক্রিকেটের মেগা ইভেন্ট সূচনার পর থেকে একাধিকবার ফাইনাল খেললেও অধরা মাধুরী ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের। তাই রবিবাসরীয় লর্ডসের ব্যালকনিতে একদল যখন প্রথমবারের জন্য ট্রফি হাতে তুলবে, অন্যদলকে তখন অপেক্ষা করতে হবে আরও চার বছরের।

১৯৯২ শেষবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সৌভাগ্য হয়েছিল চলতি বিশ্বকাপের আয়োজক ইংল্যান্ডের। ইমরান খানের পাকিস্তানের কাছে হেরে তৃতীয়বারের জন্য তীরে এসে তরী ডুবেছিল ব্রিটিশদের। অন্যদিকে লাস্ট ল্যাপে এসে কাপ ফস্কানোর স্মৃতি কিউয়িদের কাছে এখনও টাটকা। চারবছর আগে মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়ার কাছে পর্যুদস্ত হয়ে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের নিউজিল্যান্ডকে। অর্থাৎ ১৪ জুলাই, ২০১৯ ক্রিকেটবিশ্ব প্রথমবারের জন্য সাদরে বরণ করে নেবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। শেষবার ১৯৯৬ নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে পেয়েছিল বাইশ গজ।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই দেশের মাটিতে হট ফেভারিট ইংল্যান্ড প্রত্যাশাপূরণ করে পৌঁছে গিয়েছে ফাইনালে। সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত পাওয়ার ক্রিকেটে বেসামাল করেছে মর্গ্যান অ্যান্ড কোম্পানি। অন্যদিকে আরেক ফেভারিট টিম ইন্ডিয়াকে শেষ চারের লড়াইয়ে খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে পা রেখেছে আন্ডারডগ নিউজিল্যান্ড। যদিও টুর্নামেন্টের প্রথম চারে শেষ করার নিরিখে ফেভারিটের তালিকায় ছিল তারাও।

যাইহোক হাইভোল্টেজ ফাইনালের আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে দু’দলের মুখোমুখি সাক্ষাতের দিকে যদি একবার নজর ঘোরানো যায় দেখা যাবে পাল্লা খানিকটা ঝুঁকে কিউয়িদের দিকে। ৯বার বিশ্বকাপে দু’দলের মুখোমুখি সাক্ষাতে ৫ বার ফলাফল গিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসদের দিকে, ৪ বার জয়ী হয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। তবে চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগের লড়াই কিন্তু ফাইনালের আগে মোটেই স্বস্তি দেবে না কিউয়িদের। কারণ ওই ম্যাচে একপেশে জয় দিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করেছিল মর্গ্যান ব্রিগেড।

একনজরে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের বিগত ফলাফল-

১৯৭৫ বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড জয়ী ৮০ রানে
বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণে কেইথ ফ্লেচারের অপরাজিত ১৩১ রানের সৌজন্যে ইংল্যান্ড স্কোরবোর্ডে তুলেছিল ৬ উইকেটে ২৬৬, জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ১৮৬ রানেই অল-আউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। টনি গ্রেগ তুলে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট।

১৯৭৯ বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড জয়ী ৯ রানে
মাইক ব্রেয়ারলির ৫৩ ও গ্রাহাম গুচের ৭১ রানে ভর করে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২২১ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে জন রাইটের ৬৯ রানেও শেষরক্ষা হয়নি। থ্রিলার ম্যাচে ৯ রানে জয় তুলে নিয়েছিল ইংল্যান্ড।

১৯৮৩ বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড জয়ী ১০৬ রানে
অ্যালান লাম্বের শতরান, ক্রিস ট্যাভারের ৪৫, মাইক গ্যাটিংয়ের ৪৩। সবমিলিয়ে কিউয়িদের পাহাড়প্রমাণ ৩২৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের। জবাবে মার্টিন ক্রো-র একক লড়াই জেতাতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। ১০৬ রানে ম্যাচ হেরেছিল তারা।

১৯৮৩ বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড জয়ী ২ উইকেটে
রাউন্ড রবিন ফর্ম্যাটে গ্রুপ লিগে আরও একবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল দু’দল। এবারে অবশ্য ২ উইকেটে থ্রিলার জয় তুলে নিয়ে মধুর বদলা নেয় কিউয়িরা। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ডে গ্রেম ফাওলার ও ডেভিড গাওয়ার করেছিলেন যথাক্রমে ৬৯ ও ৯২ রান। তবে ল্যান্স কেয়ার্নস ও রিচার্ড হ্যাডলির ৩টি করে উইকেট ইংল্যান্ডকে বেঁধে রাখে ২৩৪ রানে। জবাবে বব উইলসের ৪ উইকেট সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডকে ১ বল বাকি থাকতে জয় এনে দেন জেরেমি কোনি (৬৬)। এছাড়াও জিওফ হাওয়ার্থ করেছিলেন ৬০ রান।

১৯৯২ বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড জয়ী ৭ উইকেটে
৬০ ওভার থেকে কমে ৫০ ওভার ক্রিকেট বিশ্বকাপের আবির্ভাব সাল ছিল ১৯৯২। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের কারণে গ্রাহাম গুচ খেলতে না পারায় ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বের দায়িত্বভার বর্তায় অ্যালেক স্টুয়ার্টের কাঁধে। গ্রেম হিকের ৫৬, অ্যালেক স্টুয়ার্টের ৪১, রবিন স্মিথের ৩৮ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে অ্যান্ড্রু জোনসের ৭৮, মার্টিন ক্রোর ৭৩ রান ৭ উইকেটে সহজ জয় এনে দেয় কিউয়িদের।

১৯৯৬ বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড জয়ী ১১ রানে
ওপেনার ন্যাথান অ্যাসলের শতরানে ভর করে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ৬ উইকেটে ২৩৯। জবাবে তৃতীয় উইকেটে গ্রেম হিক-অ্যালেক স্টুয়ার্ট জুটিতে ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু স্টুয়ার্ট ফেরেন ৩৪ রানে। এরপর ৮৫ রানে হিক রান-আউট হতে বদলে যায় ম্যাচ। ১১ রানে শেষমেষ ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।

২০০৭ বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড জয়ী ৬ উইকেটে
কেভিন পিটারসনের অর্ধশতরানে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২০৯ রান তুলেছিল ইংরেজরা। এরপর ১৯ রানে ৩ উইকেট খোয়ালেও স্টাইরিশের অপরাজিত ৮৭ রান ৬ উইকেটে জয় এনে দিয়েছিল কিউয়িদের।

২০১৫ বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড জয়ী ৮ উইকেটে
টিম সাউদির ৭ উইকেটে বেসামাল ইংল্যান্ড ৩৩.২ ওভারে গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৩ রানে। রুট করেন ৪৬। জবাবে ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের ২৫ বলে বিধ্বংসী ৭৭ রানের ইনিংসে ১২.২ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে রান তুলে দেয় নিউজিল্যান্ড।

২০১৯ বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড জয়ী ১১৯ রানে
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচের উপরেই নির্ভর করছিল দু’দলের ভাগ্য। কিন্তু একপেশে ম্যাচে ১১৯ রানে বিরাট জয় ছিনিয়ে নেয় ইংল্যান্ড সেইসঙ্গে শেষ চার নিশ্চিত করে মর্গ্যানবাহিনী। মূলত জনি বেয়ারস্টো-জেসন রয়ের ১২৩ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপের সৌজন্যে ৩০৫ রান তোলে ইংল্যান্ড। প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করা সম্ভব হয়নি নিউজিল্যান্ডের পক্ষে। ১৮৬ রানে অল-আউট হয়ে যায় তারা।