সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: এবার কী তবে চোকার্স তমকা ঘুছবে?

দাদারা শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছে ১৯৬৬ সালে৷ সেবার ঘরের মাঠে ওয়েস্ট জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইংল্যান্ড৷ এরপর টেমস দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু বিশ্বকাপ জয় অধরাই থেকে গিয়েছে ব্রিটিশদের৷

দাদারা না পারলেও খুদেরা করে দেখিয়েছে৷ চলতি বছরেই অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড৷ এবার ব্রিউস্টার,ফডেনদের পালা৷ যুবভারতীতে ব্রাজিলকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের প্রথমবার ফাইনাল খেলতে নামবে থ্রি লায়ন্স৷

পথটা সহজ ছিল না৷ ‘পেনাল্টি শুটআউট মানেই হরকাবে ইংল্যান্ড’ এই মিথটাও  পাল্টে ফেলেছে অ্যান্ডারসনরা৷ জাপানকে পেনাল্টি শুটআউটেই ছিটকে দিয়ে কোয়ার্টার পাকা করেছিল থ্রি লায়ন্স৷

ব্রাজিল বধের পর চওড়া হাসি নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে ঢুকে সেই কঠিন পথ চলার গল্পই শোনালেন ইংল্যান্ড কোচ স্টিভ কুপার৷ বুধ সন্ধ্যার জয়কেই হাডসন, গোমজদের কেরিয়ারের সেরা মুহূর্ত বলছেন কুপার৷ ‘ছেলেরা ফাইনাল খেলবে৷ ওদের জীবনে এর চেয়ে সেরা মুহূর্ত আর কী বা হতে পারে৷’

কুপার তখন যেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা৷ বয়সসন্ধির দোড়গোড়ায় দাঁড়ানো এক ঝাঁক তরুণদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন চ্যাম্পিয়ন করার৷

আবেগ চেপে না রাখতে পেরে বললেন, ‘আমি গর্বিত৷ আজকের দিনটার জন্য৷’ ব্রাজিল বধের পর একবার নয় বারেবারে কুপারের মুখে ফিরে এসেছে ‘এই দল নিয়ে আমি গর্বিত৷ আমরা আমাদের পরিশ্রমের মর্যাদা পেলাম৷’

কোন অস্ত্রে ব্রাজিল বধ করলেন? প্রশ্ন শুনে মুহূর্তেই শান্ত কুপার৷ ব্রাজিল কোচ আমাদেওকে সম্মান জানিয়েই বললেন,‘ব্রাজিল দল ভাল খেলেছে৷  লড়াই করেই জিততে হয়েছে আমাদের৷ আমরা শুরু থেকে আমাদের নিজস্ব খেলাটাই খেলেছি৷ যেটা খেলে আসছি প্রথম দিন থেকে৷’ এখানেই না থেমে কুপারের আরও সংযোজন, ‘বল পজিশনের ডমিনেট করেছি, যাতে ব্রাজিল সুযোগ কম পায়৷’

আর ব্রিউস্টার৷ তিনি তো ফেরাওয়ালা কুপারের ব্রহ্মাস্ত্র৷ ঠান্ডা স্বভাবের ছেলেটাই কোয়ার্টার আর সেমিতে অন্য মেজাজে ধরা পড়েছে৷ পরপর দুটো নকআউটে দুটে হ্যাটট্রিক৷ মোট সাত গোল দিয়ে লিগ তালিকার সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গিয়েছেন ইংল্যান্ডের নয় নম্বর জার্সির মালিক৷

বিশ্বকাপে ব্রিউস্টারের উন্নতিকে কীভাবে ব্যাখা করবেন? প্রশ্ন শুনে কুপার যেন আরও উচ্ছ্বসিত৷ হাতে গড়া দলের ফুটবলার এত প্রশংসা পেলে শিক্ষক হিসেবে কার না ভাল লাগে৷ তবে সচেতন স্টিভ৷ ফাইনালেও ব্রিউস্টার ম্যাজিকের সাহায্য চাই তাঁর দলের৷ তাই তো বাড়তি প্রশংসার পথে না হেঁটে আগলে রাখলেন, শুধু বললনে,‘ব্রিউস্টার স্পেশ্যাল ট্যালেন্ট৷ গোটা বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত খেলেছে৷’

শেষটায় হাসতে হাসতে বলে গেলেন, ‘আশা করি আজ ৬৬ হাজার ব্রাজিল ফ্যানকে ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পেরেছি৷ ফাইনালে আজকের চেয়ে অত্যন্ত একটু বেশী সমর্থনই আশা করব!’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ