সুভীক কুন্ডু: হাতে রুপালি রঙা বিশ্বকাপ ট্রফিটা নিয়ে কনফারেন্স রুমে ঢুকতেই থতমত খেয়ে গেলেন ইংল্যান্ড কোচ স্টিভ কুপার৷ হাততালিতে ফেটে পড়ল গোটা কনফারেন্স রুম৷

০-২ পিছিয়ে থেকে ৫-২ জয়, কুপার ও তাঁর দলের এ লড়াই যে এভাবে কুর্ণিশ কুড়োবে, এতটা কল্পনা করেননি তিনি৷সত্যিই তো শুধু কী বিশ্বজয় করে ফিরল সিংহ শাবকরা৷ পাঁচ মাস আগের এই স্পেনের কাছেই ইউরোর ট্রফি হাতছাড়ার যন্ত্রণার ভুলে নতুন ইতিহাসও তো লিখে ফেলল এই যুবভারতীতেই৷

অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাঁচগোল দেওয়ার রেকর্ড কোন দলের নেই, তাও আবার ০-২’এ পিছিয়ে থেকে টানা পাঁচটা গোল দেওয়া! অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও পাঁচ গোল দেওয়ার রেকর্ড নেই কোনও দলের৷ সিনিয়র বিশ্বকাপে শেষবার ১৯৬৬ কাপ জিতেছে থ্রি লায়ন্স৷সেবার পশ্চিম জার্মানিকে ববি মুরে ইংল্যান্ড হারিয়েছিল ৪-২ গোলে৷বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড জার্সিধারীদের হয়ে পাঁচ গোল এই প্রথম কিন্তু ব্রিউস্টারদের হাত ধরেই৷

বিশ্ব জয়৷ ছবি: শশী ঘোষ৷

সিনিয়র বিশ্বকাপের রেকর্ডবুকে চোখ বোলালে ইতিহাস বলেছে ৫-২ ব্যবধানে বিশ্বকাপের ফাইনাল জয়ের নজির একবারই আছে৷১৯৫৮ সুইডেন বিশ্বকাপে সুইডেনকে ৫-২ হারিয়েই বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছিল ব্রাজিল৷ সেই ম্যাচে লাতিন জায়েন্টদের হয়ে ফুটবল সম্রাট পেলে’র পা থেকে এসেছিল দু’দুটি গোল৷তখন ব্রিউস্টারদের থেকে পেলের বয়স মেরেকেটে এক বছর বেশী হবে৷আসল পরিসংখ্যান বলছে ব্রাজিলের কিংবদন্তী ফুটবলারের বয়স তখন ছিল ১৭ বছর ২৪৯দিন৷

বিশ্বকাপ জেতার পর এতসব রেকর্ড স্পর্শ করে ফেলেছে ইংল্যান্ড দল সেসব হয়ত ঘোড় কাটলে বুঝবে জুনিয়র লায়ন্সরা৷স্বপ্ন নয় এখন যে বিশ্বকাপ জয়ের বাস্তবে বুঁদ হয়ে আছে সিংহবাহিনী৷

খাতায় কলমে সিংহ শাবকদের অনূর্ধ্ব-১৭ পর্বে এটাই প্রথম বিশ্বকাপ৷ কিন্তু স্নায়ুর লড়াই দেখে একবারও ফডেন-ব্রিউস্টারদের মনে হয়নি এটা ওদের কেরিয়ারে প্রথম বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট৷

ব্রিটিশ কোচ কুপারও সেকথাই শোনালেন, ‘০-২ পিছিয়ে থেকে লড়াই করে জিতেছে আমার ছেলেরা৷আজকের ম্যাচে ফডেন-হাডসনরা ইস্পাত কঠিন মানষিকতারই পরিচয় রাখল৷আমি গর্বিত এই দলের কোচ হতে পেরে৷’ সত্যিই ফুটবল বিশ্বও গর্বিত ব্রিউস্টার-ফডেন-হোয়াইটদের পাঁচ গোলের রুপকথা দেখে৷