সুভীক কুন্ডু: গলায় সোনার মেডেল, হাতে রুপোলি বিশ্বকাপ ট্রফি,আর বুকে জড়ানো ইংল্যান্ড পতাকা৷

বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে এভাবেই সারা মাঠ জুড়ে একের পর এক ভিকট্রি ল্যাপ দিয়ে গেল ইংল্যান্ড ফুটবলাররা৷ একবার করে ফেন্সিং এর সামনে আসতেই যুবভারতীর সমর্থকরা যেন আরেও গর্জে উঠছে৷ ফডেন-জুয়েলদের সামনে তখন তো আর্শীবাদের ডালি সাজিয়ে দাঁড়িয়ে গোটা স্টেডিয়াম৷হাততালির ফোরায়া আর মুঠোফোনের ব্যাকলাইটে নতুন চ্যাম্পিয়নদের কুর্নিশ পর্ব চলল মিনিট কুড়ি ধরে৷ ইংল্যান্ড দল শুধু ভালবাসা নিলই না বদলে কিছু ফিরিয়েও দিল৷ সেই রিটার্ন গিফট পেয়েই খুশী যুবভারতী৷

ভিকট্রি ল্যাপ দিতে দিতে হঠাৎই কোথা থেকে জুয়েলদের হাতে ভারতের পতাকা৷এতদিন যুবভারতীর সমর্থকরা মুঠো ভরে ভালবাসা বিলিয়ে গেছে ইংরেজদের জন্য৷ শুরুটা সেই ৮ অক্টোবর৷ তারপর প্রতি ম্যাচেই গ্যালারিতে স্যাঞ্চো-ব্রিউস্টারদের জন্য গলা ফাটিয়েছে ফুটবল মক্কার দর্শকরা৷ স্যাঞ্চো ক্লাবের হয়ে খেলতে পারি দিলেও ভাঁটা পড়েনি সমর্থনে৷ ইংরেজরা যতই দুশো বছরের শাসক হোক না কেন, ছোট ফুটবলারগুলোর দোষ কোথায়৷ ওরা তো ভাল ফুটবলই উপহার দিতে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছে৷এটাই ছিল কলকাতাবাসী ব্রিটিশ সমর্থকদের বক্তব্য৷সেই ভালবাসাতেই ছেদ পড়েছিল ব্রাজিল ম্যাচ৷ কোচ কুপার ব্রাজিল বধ করে মজা করেছিলেন, ‘গ্যালারি এদিন ব্রাজিলকে ভুলে একটু আধটু আমাদেরও সমর্থন করতে পারত!’ ব্রাজিল ফাইনালের লড়াইয়ে না থাকায় ফের সমর্থন সাদা জার্সিদের দিকে গিয়েই পড়ে৷

চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘরে ফেরার আগে এত ভালবাসা ভুলতে পারেনি ফডেনরা৷ তাই চ্যাম্পিয়ন হয়েই ভারতবাসীদের জন্য ভালবাসা বিলিয়ে দিয়ে গেলেন জুয়েল-প্যানজোরা৷ বুকে ইংল্যান্ড থাকলেও ভারতীয় পতাকা নিয়ে চলল কিছুক্ষণ ভিকট্রি ল্যাপ৷ এই ভারতের মাটিতেই অপরাজেয় থেকে বিশ্বের সেরা দল হিসেবে রাজ্যাভিষেক৷ সেই রণভূমি ভারতকে ভুললে চলে৷ তাই ভারতের পতাকা হাতে ছবি তুলে ভারতীয় সমর্থকদের রিটার্ন গিফট দিয়ে গেল সিংহ শাবকরা৷