সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সময় বলেছিলেন কলকাতাকে লন্ডন বানাবেন। কিন্তু এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন লন্ডন বানানোর স্বপ্ন বোধহয় তিনি দেখেন না। করোনা থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য সারা বিশ্ব যেখানে একটু দূরে দূরে থাকার পথে হাঁটার চেষ্টা করছে, তখন ইংল্যান্ড স্রেফ নিজেদের স্বার্থে সবকিছুকে স্বাভাবিক রেখে দিয়েছে। কোনও পদক্ষেপ তো অনেক দূরের কথা উল্টে সবকিছুকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে সে দেশের সরকার।

কলকাতাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্রই সমস্ত স্কুল কলেজ এক মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে করোনা সতর্কতার জন্য। অন্যদিকে লন্ডনসহ সারা ইংল্যান্ডে সমস্ত স্কুল কলেজ খোলা রাখা হয়েছে। খবর মিলছে ইংল্যান্ডের সরকার কোনও কিছুই বন্ধ রাখতে চাইছে না। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এও অপশন রেখে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন খেলাধুলো বন্ধ রাখছে তখন ইংল্যান্ডের সরকার সম্পূর্ণ উলটোপথে হাঁটছে। কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। খেলোয়াড়রা নিজেরাই সরে এসেছেন বলে সে দেশে খেলাধুলো বন্ধ। কারণ কী? জানা যাচ্ছে অর্থনীতি ঠিক রাখতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রবাসী ভারতীয় অ্যানি দে সরকার ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। তিনি জানাচ্ছেন, ‘এখানে সবকিছু স্বাভাবিক রাখার প্রবল চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষ এটা চাইছে না কিন্তু সরকার এটাই চাইছে। সবথেকে অবাক করা বিষয় স্কুল কলেজ সব খোলা রয়েছে।’ কিন্তু স্কুল খোলা রেখে অর্থনীতিকে কীভাবে ঠেকনা দেওয়া যায়? অ্যানি দে সরকার জানাচ্ছেন , ‘আমি লন্ডনের ট্রান্সপোর্টে কাজ করি। আমরা যেটা বুঝতে পারছি যে, যদি ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তাঁদের বাবা মায়েরা অনেকেই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অপশন বেছে নেবেন। সেটা যদি হয় তাহলে অনেকে কাজ নাও করতে পারেন। কাজ না হলে অর্থনীতি ভাঙবে। তাই এই প্রচেষ্টা চলছে’ একইসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ডের লিডসের এক প্রবাসী ভারতীয় জানাচ্ছেন , ‘এখানকার স্কুল কলেজ সভ খোলা। না চাইলেও যেতে হচ্ছে। এখানে খেলাধুলা চালু রাখা হয়েছে। স্পোর্টসপার্সনরা নিজে খেলতে চাইছেন না বলে খেলা হচ্ছে না। না হলে সহজেই খেলা হতে পারে।’

ঘটনাচক্রে ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় করোনা নিয়ে ফেরা ওই যুবক অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র। আজই সে দেশ থেকে ফিল্মের কাজ মাঝরাস্তায় স্থগিত রেখে দেশে ফিরেছেন মিমি, জিত, বিশ্বনাথের মতো টলিউড তারকারা। তাঁরাও জানাচ্ছেন ‘ইংল্যান্ডের জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ওখানে দেখলে বোঝা যাবে না যে এমন ঘটনা ঘটেছে।’

প্রসঙ্গত ব্রেক্সিটের পর থেকেই ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তার উপর করোনা হামলায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে। ডবল ডোজ নিতে চাইছে ইংল্যান্ড। প্রশ্ন উঠছে তা বলে মানুষের জীবনকে বাজি রেখে!

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব