সাউদাম্পটন: ড: বিকাশ কুমার। মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের স্নাতকোত্তর। কলেজের হয়ে চুটিয়ে ক্রিকেট খেলা এই ক্রিকেটারের বর্তমান ঠিকানা ডারহামের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ট্রাস্ট হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট। অর্থাৎ, কোভিডের বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াইয়ে তিনি বর্তমানে একজন ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার। বছর তিনেক আগে দিল্লির ফিরোজ শা কোটলায় ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্ট ম্যাচে ‘ডক্টরস অন ডিউটি’ ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখা ড: বিকাশ কুমারের স্বপ্ন সেদিন পূরণ হয়েছিল বটে। তবে ব্যাট কিংবা বল হাতে নয়, বরং বলা যায় স্টেথোস্কোপ গলায় ঝুলিয়ে।

২০১৯ পরিবার নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন বিলেত। চিকিৎসক হয়েও ক্রিকেটের নেশা এখনও ত্যাগ করতে পারেননি বিকাশ। গিল্লি বয়েজ অ্যামেচার ক্লাব এবং নিউক্যাসেলে কাউগেট ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে এখনও ক্রিকেট খেলেন তিনি। কিন্তু কোভিড১৯’র ছোবলে ব্যাট-বল আপাতত শিকেয়। গত কয়েকমাস ধরে কোভিড আক্রান্ত মানুষের কথা ভেবে কেবল স্বার্থত্যাগ আর দিনরাত এক করে চলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই চিকিৎসক। অবশেষে বেন স্টোকসের জার্সিতে নিজের নাম দেখে আর আবেগ চেপে রাখতে পারলেন না তিনি।

উল্লেখ্য, চরম দুঃসময়ে যে সকল ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কাররা কোভিড১৯ মোকাবিলায় নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছেন, তাঁদের সম্মানার্থে সম্প্রতি ‘রেইস দ্য ব্যাট’ ক্যাম্পেন চালু করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। আর সেই ক্যাম্পেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ড: বিকাশ কুমার। বুধবার অ্যাজাস বোলে ড: বিকাশের নেম লেখা জার্সি পরে অনুশীলনে দেখা যায় ইংরেজ অধিনায়ক বেন স্টোকসকে। যা দেখে আপ্লুত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক বলছেন, ‘আমি স্টোকস সহ অন্যান্যদের পিঠে বার্তা দেখে আপ্লুত। খুব কঠিন সময় এটা আমাদের জন্য। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের সমস্ত কর্মীরা অনেক স্বার্থত্যাগ করেছেন এই দুঃসময়ে। এই স্বীকৃতি গোটা চিকিৎসা জগতের, যার মধ্যে আমার ভারতের চিকিৎসক বন্ধুরাও রয়েছেন।’

আপাতত ডারহামের হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে এমার্জেন্সি কোভিড১৯ আক্রান্তদের দেখভালের দায়িত্ব দিল্লি ইউনিভার্সিটির প্রাক্তনী ড: বিকাশের কাঁধে। বাড়িতে পুত্রসন্তান বিরাজের দেখাশোনার দায়িত্ব স্ত্রী স্মিতা রেশমির কাঁধে। যিনি নিজেও চিকিৎসা সম্বন্ধে বিভিন্ন লেখালেখির কাজের সঙ্গে যুক্ত। তবে কেবল ড: বিকাশ কুমার একাই নন, ‘রেইস দ্য ব্যাট’ ক্যাম্পেনে মনোনীত হয়েছেন আরও দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক। নরউইচের ড: কাইখুসরু দস্তুর ও লেস্টারের হরিকৃষ্ণ শাহ এবং কৃষাণ আঘাদাও ইসিবির এই মহৎ ক্যাম্পেনে মনোনীত।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ