লন্ডন: সেমিফাইনালের লো স্কোরিং ম্যাচে টিম ইন্ডিয়াকে ছিটকে দিয়ে উপর্যুপরি দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের খেতাবি লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড৷ বিরাট কোহলিদের চমকে দিলেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে তাদের ঘরের মাঠে চমক দেওয়া হল না কিউয়িদের৷ যদিও চমকপ্রদ ক্রিকেট উপহার দেয় কেন উইলিয়ামসনরা৷

হাতের তালুর মতো চেনা লর্ডসের সবুজ গালিচায় ব্রিটিশ ক্রিকেটাররা নিউজিল্যান্ডের ঝুলিয়ে দেওয়া সহজ লক্ষ্যমাত্রা অনায়াসে পার করে যাবে, এমনটাই মনে করা হয়েছিল৷ বাস্তব ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ কম রানের পুঁজি নিয়েই ব্ল্যাক ক্যাপসরা দুরন্ত লড়াই চালায়৷ তবে শেষ রক্ষা করতে পারেনি৷ ম্যাচ এবং সুপার ওভারে দু-দু’বার স্কোর লেভেল করেও বাউন্ডারি সংখ্যার হিসাবে পরাজিত হয়ে পর পর দু’টি বিশ্বকাপের রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় কিউয়িদের৷ ভাগ্যের সহায়তায় ইংল্যান্ড প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ে৷

দীর্ঘ ৪৪ বছর অপেক্ষার অবসান হয় ইংল্যান্ডের৷ ১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতেই শুরু হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বকাপের যে অধ্যায়, সেটা এতদিনে এসে পূর্ণতা পায় ব্রিটিশদের কাছে৷ চার বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে অবশেষে আসে সাফল্য৷ বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে এসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কুলিন কুলে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড৷

লর্ডসে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডকে নাগালের মধ্যে আটকে রাখতে সক্ষম হয় ব্রিটিশরা৷ নির্ধারিত ৫০ ওভারে কিউয়িরা ৮ উইকেটের বিনিময়ে ২৪১ রান তোলে৷

ম্যাচের শুরুটা ভালো করলেও মার্টিন গাপ্তিল আরও একবার বড় রান করতে ব্যর্থ হন৷ গলগত ২৯ রানের মাথায় ওকসের বলে এলবিডব্লু হন গাপ্তিল৷ ফিরে যাওয়ার আগে ১৮ বলে ১৯ রান করেন তিনি৷ নিকোলসকে সঙ্গে নিয়ে উইলিয়ামসন দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ৭৪ রান যোগ করেন৷ শেষে ৫৩ বলে ৩০ রান করে প্লাঙ্কেটের বলে বাটলারের দস্তানায় ধরা পড়ে যান কিউয়ি দলনায়ক৷

উইলিয়ামসন আউট হওয়ার পর থেকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড৷ নিকোলস ৭৭ বলে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করে প্লাঙ্কেটের বলেই বোল্ড হন৷ রস টেলরকে ব্যক্তগত ১৫ রানের মাথায় এলবিডব্লুর ফাঁদে জড়ান মার্ক উড৷ জিমি নিশাম ২৫ বলে ১৯ রান করে প্লাঙ্কেটের তৃতীয় শিকার হন৷ ওকসের বলে গ্র্যান্ডহোম আউট হন ২৮ বলে ১৬ রান সংগ্রহ করে৷
টম লথাম অল্পের জন্য হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন৷ ৫৬ বলে ৪৭ রান করে তিনি ওকসের শিকার হন৷ ম্যাট হেনরি ৪ রান করে জোফ্রা আর্চারের ফুলটস বলে বোল্ড হন৷ স্যান্টনার ৫ ও বোল্ট ১ রান করে অপরাজিত থাকেন৷

ওকস ও প্লাঙ্কেট ৩টি করে উইকেট ভাগ করে নেন নিজেদের মধ্যে৷ ওকস ৯ ওভারে ৩৭ ও প্লাঙ্কেট ১০ ওভারে ৪২ রান খরচ করেন৷ ১টি করে উইকেট পেয়েছেন জোফ্রা আর্চার ও মার্ক উড৷

পালটা ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড দাপুটে শুরু করতে ব্যর্থ হয়৷ দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো যথাক্রমে ১৭ ও ৩৬ রান করে আউট হন৷ জো রুট ৭ ও ইয়ন মর্গ্যান ৯ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷মাত্র ৮৬ রানের মধ্যে ইংল্যান্ড টপ অর্ডারের প্রথম চারটি উইকেট হারিয়ে বসলেও জোস বাটলারকে নিয়ে বেন স্টোকস দলের বিপর্যয় রোধ করেন৷ পঞ্চম উইকেটে দু’জনে মিলে ১১০ রান যোগ করেন৷ শেষে বাটলার ৬০ বলে ৫৯ রান করে আউট হন৷

ক্রিস ওকস (২), লিয়াম প্লাঙ্কেট এবং ইনিংসের একেবারে শেষ দু’টি বলে আদিল রশিদ (০) ও মার্ক উড (০) আউট হলেও ইংল্যান্ড কোনও রকমে ১০ উইকেটে ২৪১ রান তুলে ম্যাচ ম্যাচ টাই করে৷ স্টোকস ব্যক্তিগত ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন৷

সুপার ওভারে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ১৫ রান তোলে৷ পালটা নিউজিল্যান্ডও ১৫ রান তুললে ম্যাচ আরও একবার টাই হয়৷ তবে ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মারার জন্য ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়৷ ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন স্টোকস৷ টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার উঠেছে কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের হাতে৷