নেপিয়ার: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডের কাছে শুক্রবারের ম্যাচ ছিল ‘ডু অর ডাই’। ডেভিড মালান ও অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যানের ধুন্ধুমার ব্যাটিং সঙ্গে ম্যাট পারকিনসনের বিষাক্ত স্পিনে ডু অর ডাই ম্যাচ জিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড। ৫১ বলে বিধ্বংসী ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন মালান। ৪১ বলে ৯১ রান এল অধিনায়ক মর্গ্যানের ব্যাট থেকে। ঝুলিতে ৪ উইকেট নিলেন লেগ-স্পিনার পারকনিসন। নেপিয়ারে ইংল্যান্ড জিতল ৭৬ রানে।

ম্যাকলিন পার্কে টস জিতে এদিন সফরকারী দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান কিউয়ি অধিনায়ক টিম সাউদি। চতুর্থ ওভারে দলীয় ১৬ রানের মাথায় জনি বেয়ারস্টোর উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ২০ বলে ৩১ রান করে আউট হন আরেক ওপেনার টম ব্যান্টন। দলের রান তখন ২ উইকেটে ৫৮। তৃতীয় উইকেটে ডেভিড মালান ও অধিনায়ক মর্গ্যানের চওড়া ব্যাট রানের পাহাড়ে পৌঁছে দেয় ইংরেজদের। কিউয়ি বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

৭টি চার ও ৭টি ছয়ের সাহায্যে ৪১ বলে ৯১ রান করে দলকে রানের পাহাড়ে পৌঁছে দিয়ে আউট হন মর্গ্যান। তবে শতরান থেকে বঞ্চিত করা যায়নি মালানকে। তৃতীয় উইকেটে মালান-মর্গ্যান জুটিতে ১৮২ রান তোলে ইংল্যান্ড। মর্গ্যান আউট হলেও ৫১ বলে ১০৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মালান। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৯টি চার ও ৬টি ছয় দিয়ে। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে পাহাড়প্রমাণ ২৪০ রান তোলে সফরকারী দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা যথাযথ করেন দুই কিউয়ি ওপেনার মার্টিন গাপতিল ও কলিন মুনরো। ৪.২ ওভারে দলের রান ৫০ পার করে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু পরের বলেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন গাপতিল। ১৪ বলে ২৭ রানের বেধড়ক ইনিংস খেলে আউট হন কিউয়ি ওপেনার। পরের ওভারেই পারকিনসন ফেরান শেইফার্টকে। মেজাজে রান তাড়া করতে শুরু করা নিউজিল্যান্ড হঠাতই ব্যাকফুটে চলে যায় ৮৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে। ২১ বলে ৩০ রান করে আউট হন আরেক ওপেনার কলিন মুনরো।

মিচেল স্যান্টনার ও অধিনায়ক সাউদি শেষ চেষ্টা করলেও এত বড় লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করার মত রসদ তাঁদের ছিল না। সপ্তম উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যান ৪৯ রানের অবদান রাখেন। ২টি চার ও ৪টি ছয়ের সাহায্যে ১৫ বলে ৩৯ রানের দুরন্ত ক্যামিও খেলে আউট হন অধিনায়ক সাউদি। এরপর নিউজিল্যান্ড ইনিনিগস শেষ হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ১৬.৫ ওভারে ১৬৫ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড ইনিংস। ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট দখল করেন পারকিনসন। ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ক্রিস জর্ডন। একটি করে উইকেট নেন স্যাম কারেন, টম কারেন ও প্যাট ব্রাউনের।

৭৬ রানে ম্যাচ জিতে আগামী ১০ নভেম্বর অকল্যান্ডে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল।