কার্ডিফ: সোফিয়া গার্ডেনে ব্রিটিশদের ছুঁড়ে দেওয়া পাহাড়প্রমাণ রান রান তাড়া করে জয় তুলে নেবে বাংলাদেশ, এমনটা ভাবেননি অতি বড় বাংলাদেশ সমর্থকও। তবু টুর্নামেন্টে যে প্রত্যাশা জাগিয়ে শুরু করেছে দেশ তাতে তুল্যমূল্য একটা লড়াই আশা করেছিলেন ওপার বাংলার ক্রিকেট অনুরাগীরা। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পর শাকিব-মুশফিকুর ফের একটা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বটে, কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা আর ফলপ্রসূ হয়নি। বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল আয়োজক ইংল্যান্ড।

কার্ডিফে এদিন টস জিতে মাশরাফির প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আদ্যোপ্রান্ত ভুল প্রমাণ করে ছাড়েন দুই ইংরেজ ওপেনার। জেসন রয়-জনি বেয়ারস্টোর হাত ধরে শনিবার সোফিয়া গার্ডেনে অব্যাহত ইয়ন মর্গ্যানের দলের সুহানা সফর। ওপেনিং জুটিতে ১২৮ রান যোগ করে ইংল্যান্ড ইনিংসকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। ১৫ ওভারেই একশো রানের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। দুই ওপেনারের মধ্যে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন রয়। বাংলাদেশি বোলারদের ক্লাবস্তরে নামিয়ে এনে একাই দেড়শোর গন্ডি টপকে যান ডানহাতি ইংরেজ ওপেনার। ৯২ বলে ওয়ান ডে কেরিয়ারে অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করে রয়।

বিশ্বকাপে প্রথম শতরানের পথে একটি ছক্কা ও এক ডজন বাউন্ডারি মারেন তিনি৷ শেষ পর্যন্ত ১৫৩ রানে মেহেদি হাসান মির্জার বলে ড্রেসিংরুমে ফেরেন জেসন রয়৷ ১২১ বলে ৫টি ওভার বাউন্ডারি ও ১৪টি বাউন্ডারি মারেন তিনি৷ চলতি বছরে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন ইংরেজ ওপেনাররা৷ তবে রয় সেঞ্চুরি হাঁকালেও হাফ-সেঞ্চুরির পরই বাংলাদেশি ক্যাপ্টেন মাশরাফি মোর্তাজার বলে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা লাগান বেয়ারস্টো৷ ৫০ বলের ইনিংসে হাফ-ডজন বাউন্ডারি হাঁকান তিনি৷

শক্ত ভিতের উপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে জো রুট ব্যক্তিগত ২১ রানে আউট হলেও ক্যাপ্টেন মর্গ্যান ও জোস বাটলারের পার্টনারশিপে সহজেই তিনশোর গণ্ডি টপকে যায় ইংল্যান্ড৷ চতুর্থ উইকেটে দু’জনে ৯৫ রান যোগ করেন বাটলার ও মর্গ্যান৷ ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে অবশ্য রয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৭ রান যোগ করেন রুট৷ ৪৪ বলে চার ছক্কা ও দু’টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৬৪ রান করে মহম্মদ সুফিউদ্দিনের শিকার হন বাটলার৷ ৩৩ বলে ৩৫ রান করেন ক্যাপ্টেন মর্গ্যান৷ শেষ দিকে ক্রিস ওয়াকস ও লিয়াম প্লাঙ্কেটের ঝোড়ো ইনিংসে চারশোর দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড৷

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৬৩ রানে দুই ওপেনারকে হারায় টাইগাররা। এরপর তৃতীয় উইকেটে শাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ১০৬ রানের পার্টনারশিপে সাময়িক আশার আলো দেখে বাংলাদেশ। রয়ের পালটা ওয়ান-ডে ক্রিকেটের অষ্টম শতরানটি তুলে শাকিব থ্রি-লায়ন্সকে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও সঙ্গী মুশফিকুর ফিরে যেতেই ধস নামে শিবিরে। ৫০ বলে ৪৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মুশফিকুর। শূন্য রানে ফেরেন মহম্মদ মিঠুন।

১১৯ বলে ১২১ রান করে এরপর শাকিব ফিরতেই পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। শাকিবের প্রথম বিশ্বকাপ শতরানের ইনিংস সাজানো ছিল এক ডজন চার ও ১টি ছয়ে। টেল এন্ডারদের কম-বেশি সহযোগীতায় এরপর ২৮০ অবধি পৌছতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। জোফ্রা আর্চারের ও বেন স্টোকসের ৩ উইকেট, মার্ক উডের ২ উইকেটে ৪৮.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ ইনিংস। এছাড়া ১টি করে উইকেট পান লিয়াম প্লাঙ্কেট ও আদিল রশিদ।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।