বার্মিংহ্যাম: সেমিফাইনালে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পয়ন অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার এজবাসটনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে আট উইকেটে হারিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। রবিবার লর্ডসে খেতাবের লড়াইতে নামবে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। অর্থাৎ নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাবে ক্রিকেটবিশ্ব।

বুধবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড। গতবার ফাইনালে উঠলেও বিশ্বজয়ের স্বাদ পায়নি কিউয়িরা। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ট্রফি জয়ের স্বাদ অপূর্ণ থেকে ছিল কেন উইলিয়ামসনদের। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড। আর এদিন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ১৯৯২-এর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড।

এজবাসটনের ২২৩ রান তাড়া করে হাসতে হাসতে অজি বধ করে ইংরেজ বাহিনী। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুতেই বিপর্যয়ের সামনে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ১৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অজি ইনিংসকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দেয় স্টিভ স্মিথ ও অ্যান্ডি ক্যারির লড়াই। ১১৯ বলে ৮৫ রানে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক স্মিথ। আর রক্তাক্ত চোয়াল নিয়েও ৪৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন অজি উইকেট কিপার ক্যারি।

ম্যাচের শুরুতেই ক্রিস ওয়কসের বলে চোয়ালে চোট পেলেও মাঠ ছাড়েননি ক্যারি। চোয়ালে ব্যান্ডেজ নিয়েও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে লড়াই করে যান অজি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটে স্মিথের সঙ্গে ১০৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ক্যারি। স্মিথ ও ক্যারির লড়াই সত্বেও ৪৯ ওভারে ২২৩ রানে অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

রান তাড়া করতে নেমে ১২৪ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপে ইংল্যান্ডকে ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। ৬৫ বলে পাঁচটি ৬ ও ন’টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৫ রানের ধামাকাদার ইনিংস খেলেন রয়। ৪৩ বলে ৩৪ রান করেন বেয়ারস্টো। এরপর রুট ও মরগ্যানের ব্যাটে ২৭ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। ম্যাচের সেরা ইংরেজ অলরাউন্ডার ক্রিস ওয়াকস।

শেষবার ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও পাকিস্তানের কাছে হারায় বিশ্বজয়ের স্বাদ পূর্ণ হয়নি ইংল্যান্ডের। সেবার গ্রাহাম গুচের দলকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ণ হয়েছিল ইমরান খানের পাকিস্তান। এবার অবশ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয় হওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামনে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইয়ন মরগ্যানের দলকে চ্যাম্পিয়নের সম্ভাব্য দাবিদার মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব খেতাব থেকে মাত্র এক কদম দূরে ইংরেজরা। রবিবাসরীয় লর্ডসে মরগ্যানরা শেষ হাসি হাসলে বিশ্বজয়ের স্বাদ পূরণ হবে ইংরেজদের।