স্টাফ রিপোর্টার, শ্রীরামপুর: পেশায় অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার। নম্র, ভদ্র স্বভাবের ওই যুবককে পাড়ায় সবাই পছন্দ করত। কিন্তু সেই সেই যুবকের বাড়িতেই যখন একটা অস্ত্র কারখানার হদিস মিলল, তখন রীতিমত তাজ্জব গোটা পাড়া।

শ্রীরামপুরের অভিজাত এলাকা ঋষিবঙ্কিম সরণির বাসিন্দা সুজাত গোস্বামীর কীর্তিতে বিস্মিত পুলিশও।

এসটিএফ জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে হুগলির শ্রীরামপুর থানার পুলিশ শ্রীরামপুরের জলকল মাঠ থেকে কুখ্যাত দুষ্কৃতী রমেশ দাস ওরফে লেংড়িকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার করেছিল। ধৃত রমেশকে জেরা করে সুজাত গোস্বামীর খোঁজ পায় পুলিশ। জানতে পারে সুজাতর কাছ থেকে সে আগ্নেয়াস্ত্রটি কিনেছে। এরপরই শ্রীরামপুর থানার পুলিশ সুজাত গোস্বামীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র কারখানার হদিশ পায়।

সুজাতর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যায়। দোতলার ঘরের একটি কোণে ও বাড়ির নিচে এক কোণে ছোট কুঠুরিতে তৈরি হয়েছে অস্ত্র কারখানা। আর সেখানেই মিলেছে লেদ মেশিন, গ্যাস কাটার, ম্যাগাজিন, পালিশ মেশিন ও কিছু অর্ধসমাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র ও বেশ কিছু বন্দুকের নল। জানা গিয়েছে, গত প্রায় চার বছর ধরে বাড়ির মধ্যেই চলছে অস্ত্র তৈরির কারখানা।

এদিকে, রমেশকে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ ধরার আগেই কলকাতার এসটিএফ-এর একটি বিশেষ তদন্তকারী দল সোমবার রাতে স্ট্র্যান্ড রোড থেকে সুজাত গোস্বামী ও মহম্মদ শাহিদ নামে দুইজনকে ধরে। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ আটটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করে। পুলিশের অনুমান অস্ত্র বিক্রি করতেই কলকাতায় গিয়েছিল সুজাত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুজাতর এক বোন একটি নামী স্কুলের শিক্ষিকা। বাবাও ভাল চাকরি করতেন। এদিকে, অস্ত্র কারখানার ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানতেন বলে দাবি করেছেন বাড়ির লোকেরা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পরিবারের লোকজনের বক্তব্য, সুজাত বাড়ির ভিতর মোটরসাইকেলের পার্টস তৈরি করত। যদিও এই তত্ত্ব মানতে নারাজ পুলিশ।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।