নয়াদিল্লি: ”ভারতের সংবিধানের ইতিহাসে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার ছিল একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার ফলে আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে ছায়া যুদ্ধ এড়ানো গিয়েছে। এই ধারা প্রত্যাহারের ফলে জম্মু ও কাশ্মীরবাসীদের ভারতের মূলস্রোতের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করবে।” দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট আর্মি প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত ৭২ তম সেনাদিবসের অনুষ্ঠানে এসে এই কথায় জানালেন দেশের নয়া সেনাপ্রধান এম এম. নারাভানে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে আমাদের সেনাবাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই কাজ করছে। এদিন নাম না করে পাকিস্তানকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ” সন্ত্রাসবাদের মদত দাতাদের রুখতে আমাদের কাছে অনেকগুলি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে সেই বিকল্প পথগুলি ব্যবহার করতে আমরা দ্বিধা বোধ করব না।”

গত মাসেই প্রাক্তন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের জায়গায় নিযুক্ত হন মনোজ মুকন্দ নারাভানে। নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন তিনি।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গত মাসেই ইসলামাবাদকে কটাক্ষ করে নারাভানে জানিয়েছিলেন, যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ রুখতে কোনও রকম পদক্ষেপ না নেয় তাহলে, পাল্টা হিসেবে সন্ত্রাসবাদ কিভাবে দমন করতে হয় তা ভালো করে প্রতিবেশী দেশকে বুঝিয়ে দেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তিনি আরও জানান, ”’পাক সীমান্ত দিয়ে ভারতে সন্ত্রাস প্রবেশ রুখতে এবং অশান্তি বন্ধ করতে সেনাবাহিনী যে কোনও ধরনের হামলা চালাতে সর্বদা তৈরি। এবং প্রতিবেশী দেশকে পাল্টা হিসেব দিতে এই হামলা চালানোর পূর্ণ অধিকার রয়েছে আমাদের।”

চলতি মাসের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ায় সেখানকার আইন শৃঙ্খলার অনেক উন্নতি হয়েছে। এই ধারা প্রত্যাহারের পর উপত্যকায় সংঘর্ষের পরিমান অনেক কমে গিয়েছে। এবং ধীরে ধীরে সেখানে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছে।