মুম্বই: সকাল থেকেই মন ভার রাষ্ট্রের। মালাপ্পুরমে গর্ভবতী হাতিকে বিস্ফোরক ভর্তি আনারস খাইয়ে হত্যার ঘটনায় কেটে গিয়েছে বেশ কিছুদিন। যদিও নারকীয় এই হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন গ্রেফতার করা যায়নি কাউকে। ঘটনাটি দিনকয়েক বাদে প্রকাশ্যে আসতেই ইন্টারনেটে নিন্দার ঝড়। স্বাক্ষরতার নিরিখে শীর্ষে থাকা দেশের রাজ্যটিতে এমন এক ঘটনায় হতভম্ব গোটা রাষ্ট্র।

কাপুরুষোচিত এমন ঘটনার নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দায় সরব হলেন দেশের ক্রিকেট ও ফুটবল দলের দুই অধিনায়ক। অবিলম্বে বন্ধ হোক এমন বর্বর কাজ। এমনই আবেদন জানিয়ে টুইটারে কোহলি সন্তানসম্ভবা হাতিটির একটি প্রতীকী ছবি পোস্ট করে লিখলেন, ‘কেরলের যা ঘটেছে সেটা শুনে হতবাক আমি। হৃদয় দিয়ে দেশের পশু-পাখিদের পালন করা হোক। অবিলম্বে বন্ধ হোক এমন কাপুরুষোচিত কাজ।’

জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীও নিন্দায় সরব হয়েছেন মালাপ্পুরমের ঘটনায়। টুইটারে ছেত্রী লিখেছেন, ‘একটা গর্ভবতী হাতি। ওর ক্ষতি করার প্রবৃত্তি মোটেই ছিল না। কিন্তু মানুষ ওর সঙ্গে যেটা করল সেটা দানবীয় একটা কাজ। এর ফল ওদের ভুগতেই হবে। প্রকৃতিকে রক্ষা করতে আমরা বারংবার ব্যর্থ। তাহলে কীভাবে আমরা সবচেয়ে বিবর্তিত প্রজাতি হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারি?’

সকালেই এমন ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ফার্স্ট লেডি অনুষ্কা শর্মা। বলিউড অভিনেত্রী লেখেন, ‘এক্ষেত্রে বর্বরতা সীমা ছাড়িয়েছে। যখন তোমার মধ্যে সহানুভূতি কিংবা মমতার মতো বিষয় থাকে না তখন তুমি নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে পারো না। কাউকে আঘাত করা হত্যা করা মানবতার ধর্ম হতে পারে না।’

উল্লেখ্য, গত ২৭মে ক্ষুধার্ত অবস্থায় গর্ভবতী হাতিটি গ্রামে ঢুকে পড়েছিল। গ্রামবাসীরা খাওয়ার জন্য দিয়েছিল একটি আনারস। কিন্তু সেই আনারসেই সব শেষ। গ্রামবাসীরা আনারসের মধ্যে ভরে দিয়েছিল বিস্ফোরক বাজি। হাতিটি সেই আনারস খেতেই তা ফেটে যায় হাতিটির মুখের ভিতর। সাঙ্ঘাতিক জখম অবস্থাতেই ঘন্টার পর ঘন্টা স্থানীয় এক নদীর জলে নেমে দাড়িয়ে থাকে মা হাতিটি। জলে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। গর্ভের সন্তানের আর পৃথিবীর আলো দেখা হয় না।

কেরলের মালাপ্পুরমে এক বনকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি প্রথম তুলে ধরেন। মুহূর্তে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। গর্ভবতী হাতিটি বন ছেড়ে খাবারের উদ্দেশ্যে গ্রামে এসেছিলো। কিন্তু তার সঙ্গেই নির্মম মানুষরা এই সাংঘাতিক আচরণ করেছে। দেশজুড়ে ঘটনার নিন্দা হচ্ছে। বনদফতরের এক আধিকারিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট লিখেছেন, ‘হাতিটি আমাদের বিশ্বাস করেছিল। আনারস খাওয়ার পর যখন তা ফেটে যায় আমি নিশ্চিত ও নিজের কথা ভাবেনি। ও তখন নিজের গর্ভস্থ সন্তানের কথা ভাবছিল।’

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প