স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: বিতর্কের অবসান। অবশেষে বিয়েটা করেই ফেললেন টেবিল টেনিস তারকা সৌম্যজিৎ ঘোষ। হাত ধরলেন দীর্ঘদিনের বান্ধবীর। সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি হঠাৎ করেই ওই বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশে একপ্রকার চাপের মুখে বিয়েটা সেরে ফেললেন এই টিটি তারকা।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের অভিযোগ বাংলার অর্জুন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে

আরও পড়ুন: অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা প্রণয়ীর গর্ভপাত করিয়েছিলেন সৌম্যজিত

শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ন’পাড়ায় মেযেটির বাড়িতেই বিয়ে করেন সৌম্যজিৎ। দেশের বাড়ি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। তবে আর উত্তর দক্ষিণের ঝামেলায় যাননি সৌম্যজিৎ। কলকাতার বাঘাযতীনের বাড়ি থেকে বারাসতে এসে পুরনো বান্ধবীর সঙ্গে শুভ পরিণয় সম্পন্ন করেন।

সৌম্যজিৎ ও তাঁর বান্ধবীর সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন এবং বিতর্কের সূত্রপাত চলতি বছরেই। সৌম্যজিৎ ঘোষ দেশের হয়ে বিদেশে খেলতে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের বান্ধবীর সঙ্গে হঠাৎই সব সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।

মেয়েটির অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেছে সৌম্যজিৎ৷ এমনকী, একবার তাঁকে গর্ভপাত করতেও বাধ্য করা হয়৷ তার পরও কেন সৌম্যজিৎ এমন করল, তার উত্তর খুঁজতেই তিনি সরব হন৷

আরও পড়ুন: ‘কমনওয়েলথের আগে সৌম্যজিতকে ফাঁসানো চেষ্টা’

এরপরেই বারাসতের ওই যুবতী দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রী সেই সময় মেয়েটিকে সব রকম আইনগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বারাসতের বিধায়ক প্রখ্যাত অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তীকে মেয়েটির পরিবারের পাশে থেকে সাহায্যের নির্দেশ দেন। কলকাতা হাই কোর্টে মামলা গড়ায়। ওই মেয়েটি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে। দেশের শীর্ষ টেবিল টেনিস তারকার সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় কমনওয়েলথ গেমস থেকে তাঁকে সেই সময় দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় সৌম্যজিৎকে বিয়ে করতে ওই বান্ধবীকে৷ সৌম্যজিৎ হয়তো তখনই বুঝে গিয়েছিলেন যে এবার বিপথে গেলে বিপদ আসন্ন। আর ঝামেলা না বাড়িয়ে শুক্রবার শেষপর্যন্ত ওই বান্ধবীকেই বিয়েটা করেই ফেলেন দেশের শীর্ষ বাছাই এই টেবিল টেনিস তারকা।

আরও পড়ুন: ধর্ষণে অভিযুক্ত সৌম্যজিৎ সাসপেন্ড

আরও পড়ুন: টেবিল টেনিস তারকা সৌম্যজিৎ-কে গ্রেফতার নয়, নির্দেশ হাইকোর্টের

বিবাহ বাসরে হাইপ্রোফাইল পাত্র সৌম্যজিত অবশ্য পুরনো ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। অন্যদিকে পাত্রী অবশ্য চুপ ছিলেন না। তিনি বলেন, “সৌম্যজিতেতের সঙ্গে সংসার গড়তে চাই।” সমস্যার সমাধান হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও দিয়েছেন তিনি। তবে আগামিদিনে সমস্যা হলে তা নিয়ে লড়তেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিয়েছেন।