কলকাতা: তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকের মতেই অভিষেক রাজনীতিটা ধরে ফেলেছে৷ অভিষেকের সংগঠনের ক্ষমতাও মারকাটারি৷ অসমে জঙ্গি হামলায় নিহত পাঁচ বাঙালির মৃত্যুতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলায় যে বিরাট মিছিল করে দেখিয়েছেন দলের যুব সভাপতি তাতেই স্পষ্ট তাঁর সাংগঠনিক দৃড়তা৷ পশাপাশি তাঁর ভাষণও মারকাটারি৷ অভিষেকের অনবদ্য ভাষণে মোহিত দলের পোড়খাওয়া রাজনীতিকরাও৷

কিন্তু শনিবার নদিয়ার তেহট্ট বিধানসভার বেতাইয়ের সভায় তা কিছুটা ম্লান হল৷ জেলার নেতাদের দাবি অনুযায়ী, অভিষেক বলতে উঠতেই মাঠ ফাঁকা হয়ে যেতে শুরু করে৷ যদিও নদিয়া জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর বাবুর দাবি, ৬০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছিল এদিন৷

আরও পড়ুন: ডাক্তার সুকুমারের ওষুধেই আদিবাসীদের ধরে রাখতে মরিয়া মমতা

লোক কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জেলার নেতাদের যুক্তি, সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে এলাকায়৷ নদিয়ার এরকম অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে কোনও সভা বা মিছিল মিটিং করা হয়নি৷ আর সেই ব্যর্থতারই প্রভাব পড়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায়৷

একাংশের কথায়, বারবারই জেলা নেতৃত্বকে ভাঙা হচ্ছে৷ সেটাও যথেষ্ট কারণ হতে পারে৷ এদিনের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস মহা সচিব তথা নদিয় জেলার পর্যবেক্ষক পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ ছিলেন তৃণমূলের অন্যান্য জেলা নেতৃত্বরাও৷

পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পর্যবেক্ষক রেখেই গত ৫ নভেম্বর দলের কোর কমিটির বৈঠকে নদিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও৷ দলনেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, কৃষ্ণনগরের বেশ কিছুটা জায়গার দায়িত্ব বর্তায় শুভেন্দুর ওপর৷ কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর কতবার গিয়েছেন তিনি জেলায়? জেলা নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, ‘কৃষ্ণনগর টাউনে একটি সভায় যোগদান করেছিলেন শুভেন্দুবাবু৷’ তবে যুব সভাপতির এই সভাটি ছিল বেতাইয়ে৷ তেহট্ট বিধানসভার একটি গ্রাম৷ জেলা নেতৃত্বের কথায় স্পষ্ট সেখানে সেভাবে সাংগঠনিক জোর নেই তৃণমূল কংগ্রেসের৷ আর তাই এদিনের এই ভরাডুবি৷

আরও পড়ুন: ‘অ্যাক্সিডেন্টার চিফ মিনিস্টার’! কুমারস্বামীকে কটাক্ষ বিজেপির

উপরন্তু কৃষ্ণনগরের একটা বড় অংশে রয়েছে বিজেপির প্রভাব৷ তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের কথা অনুযায়ী, সেখানে নাকি জুলুবাবুর পকেটের ভোটই একলাখ৷ ফ্যাক্টর হতে পারে মাইনরিটি ভোটব্যাংকও৷ সেদিক থেকে দেখতে গেলে এখানে খানিকটা চাপেই রয়েছে শাসক দল৷ সূত্রের খবর, এদিনের যুব সভাপতির সভার পরই সাংগঠনিক শক্তিকে জোরদাড় করতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাপাচ্ছে তৃণমূল৷

এদিনের ভাষণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির রথ যাত্রাকে কটাক্ষ করেন৷ পাশাপাশি দলের ব্রিগেড সমাবেশকে ঘিরে একরাশ পরিকল্পনা দেন৷ ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গড়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের এই ব্রিগেড সমাজকে সফল করতে আহ্বান করেন তিনি৷ বিভিন্ন অ-বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলির প্রসঙ্গ টেনে সকলে মিলে ২০১৯-এ বিজেপিকে ফিনিশ করার বার্তা দেন৷