কলকাতা:  ই-সার্ভিস বুক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। কিন্তু এখন ম্যানুয়েল সার্ভিস বুক রয়েছে সরকারি কর্মীদের, ই-সার্ভিস বুক তৈরি করতে গেলে তা আপডেট করতে হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা খুব ধীর গতিতে চলছে। কিন্তু সম্প্রতি অর্থদফতরের তরফে সমস্ত সরকারি দফতরকে দ্রুত তা আপডেট করার জন্যে নির্দেশ দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই তা শেষ করার জন্যে বলা হয়েছে।

কিন্তু তা করা শেষ করা যাবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ বহু সরকারি জায়গায় লম্বা ছুটি ছিল। সামনেই আবার কালীপুজোতে লম্বা ছুটি রয়েছে। ফলে এই মাসে এই কাজ শেষ করা যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মীদের সার্ভিস বুক খুবই গুরুত্বপূর্ণ নথি। চাকরি জীবনের সমস্ত তথ্য সেখানে থাকে। বেতন হার, বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ছুটির হিসেব এখানে থাকে। সরকারি কর্মীর বদলি, পদোন্নতির সব উল্লেখ সার্ভিস বুকে থাকে। চাকরি জীবনের সমস্ত নথি থাকে এখানে। দীর্ঘদিন ম্যানুয়ালভাবেই সার্ভিস বুক আপডেট হত। সমস্ত সরকারি দফতরই তা করত। কিন্তু এখন তা ডিজিটাইলাজেসন করার চেষ্টা হচ্ছে।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যম বলছে, এখন ম্যানুয়াল সার্ভিস বুকের দু’টি কপি থাকে। মূল সার্ভিস বুক কর্মীর অফিসে কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকে। সার্ভিস বুকের একটি কপি কর্মীর কাছে থাকে। কর্মীর চাকরি জীবনে কোনও পরিবর্তন হলে তা দু’টি সার্ভিস বুকে নথিভুক্ত করে নেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এটা করে থাকেন। কখনও কখনও সার্ভিস বুক অফিস থেকে হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেক্ষেত্রে কর্মীর কাছে সার্ভিস বুকের যে কপি থাকে, সেটা দেখে নতুন সার্ভিস বুক তৈরি করতে হয়।

সার্ভিস বুকে অনিয়ম, জালিয়াতি করার অভিযোগও ওঠার নজির আছে। জন্মতারিখ এদিক ওদিক করে দিয়ে অবসরের সময় পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে সার্ভিস বুক হারিয়ে বা নষ্ট করে কোনও কর্মীকে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। মূলত তা রুখতেই এই ই-সার্ভিস বুক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের চাকরি নিয়ে যাবতীয় বিষয় কম্পিউটারে অনলাইনে হয়। এর জন্য এইচআরএমএস পোর্টাল তৈরি হয়েছে। শুধু সার্ভিস বুকটি ম্যানুয়াল রয়ে গিয়েছে। ই-সার্ভিস বুক হয়ে গেলে এটিও অনলাইনে চলে আসবে বলেই প্রকাশিত ওই খবরে বলা হয়েছে।